করোনার কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জোরেশোরেই চলছে ধোয়া-মোছার কাজ।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্কুল আঙিনা, বারান্দা, শ্রেণিকক্ষে ঝাড় দেওয়ার পাশাপাশি চলছে চেয়ার-টেবিল পরিষ্কারের কাজ।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা যাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে প্রবেশ করতে পারে সে জন্য তিন ফুট অন্তর দেওয়া হচ্ছে বিশেষ চিহ্ন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে কয়েক দিন বাকি থাকলেও শিক্ষকরা এখন থেকেই উপস্থিত থাকছেন প্রতিষ্ঠানে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে সরকার যে ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় উপজেলার সিংহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে মাকড়সা ও মাঠে ঘাস উঠেছিল। বুধবার গিয়ে দেখা যায়, সবকিছু পরিষ্কার করা হয়েছে।
হাত ধোয়ার জন্য রাখা হয়েছে তরল সাবান (হ্যান্ডওয়াশ) ও পানি। এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১০।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রূপন কান্তি শীল জানান, ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলা হবে-এমনটি ধরে নিয়ে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র, শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক, জীবাণুমুক্তকরণ যন্ত্র (স্প্রে মেশিন), প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী, খেলনা সামগ্রী (প্লেয়িং এক্সেসরিজ) কিনেছেন।
এদিকে, বখতিয়ারপাড়া চারপীর আউলিয়া (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের ঘাস কাটছেন কয়েকজন শ্রমিক। এরই মধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে বেঞ্চগুলো। বিদ্যালয়ের আঙিনায় চলছে ধোয়া- মোছার কাজ। বিভিন্ন পয়েন্টে টানানো হচ্ছে সচেতনতা ও নির্দেশনামূলক লেখা। কড়া রোদে দাঁড়িয়ে তাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওসমান গনি। পরিপাটি স্কুলের আঙিনা যেন শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
বিদ্যালয়ে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘ দিন পর স্কুল খোলার খবরে তাদের খুব আনন্দ লাগছে।
একজন অভিভাবক জানান, বন্ধের সময় বাড়িতে ছেলেমেয়েদের তেমন লেখাপড়া হয়নি। শিক্ষাক্ষেত্রে তারা অনেক পিছিয়ে পড়েছে। অল্প সময়ে পরীক্ষার পুরো প্রস্তুতি নিতে পারবে কি-না এ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, সরকারের ১৯ দফা নির্দেশনা মতে উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস হোসেন বলেন, এ উপজেলায় ২৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১১টি মাদ্রাসা ও কারিগরিসহ ৩টি কলেজ রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা মতে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযোগী করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সমন্বয় সভায় পুনর্মূল্যায়ন করে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
