বটিয়া খালের ওপর ভুল নকশায় সেতু নির্মাণ: নৌযান চলাচলে বিঘ্ন

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০১ এএম

ঢাকার দোহার উপজেলার বটিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর শাখা খালের ওপর এলজিইডির অর্থায়নে দুই কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুল নকশায় সেতু নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সামান্য বৃষ্টিতেই ব্রিজের গার্ডারের নিচ পর্যন্ত ছুঁয়ে গেছে পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ বর্ষার ভরা মৌসুম বা ছোট-বড় বন্যা হলে এর নিচ দিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে সব ধরনের নৌযান চলাচল।

স্থানীয়রা বলছেন, ঢাকা জেলা দক্ষিণের সব চেয়ে ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার হলো জয়পাড়া বাজার (দেবীনগর)। এখানে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে।

জয়পাড়ার এই হাটে ফরিদপুর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ নৌপথে গবাদিপশু, চাল, ডাল, সরিষা, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করে থাকেন। নিচু সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলে জয়পাড়া হাট ও বাজারে ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। 

স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ব্রিজ নির্মাণ এলাকার মানুষের দাবি, এটা সবাই চায়। তবে ভুল নকশায় সেতু নির্মাণ কেউই চায় না। এর আগে উচ্চতা বাড়িয়ে সেতু নির্মাণের দাবিতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিলেও উপজেলা প্রকৌশলী তা মানতে নারাজ। তিনি তখন বলেছিলেন, পানির লেভেল বাড়লেও নৌচলাচলে সমস্যা হবে না।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ব্রিজটির ৬০ভাগ কাজ। বন্যার পানি ও বৃষ্টির ঢলে ব্রিজ পর্যন্ত ছুঁয়ে গেছে পানিতে। আর এতেই বাল্কহেড ও ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযান স্থান দিয়ে যেতে পারছে না। তবে, নির্মাণকাজ বাকি থাকায় সেতুর মধ্যভাগ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এখনো নৌযান চলাচল করলেও, সেতু তৈরি হয়ে গেলে সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।

জয়পাড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার মাঝি বলেন, নিচু সেতুর নির্মাণ হলে জয়পাড়া হাট ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি। নিচু ব্রিজ হওয়ার ফলে পদ্মার ওপারে জেলাগুলো থেকে পণ্য আসতে সমস্যা হবে। হয়তো বা এক সময় জয়পাড়া বাজার তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।

এ বিষয়ে দোহার উপজেলা প্রকৌশলী মো. হানিফ মোর্শেদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সেতুর দুপাশের অ্যাপ্রোচ সড়কে জায়গা না থাকায় মূল অংশ উঁচু করা সম্ভব হয়নি। বর্ষা মৌসুমে ১৫দিন কষ্ট হবে। তবে নৌযান চলতে পারবে। কিন্তু পানি বেশি হলে সে ক্ষেত্রে বাল্কহেড চলাচলের সমস্যা হবে আর এই ছোট খালটি বাল্কহেড চলাচলের জন্য নয়। আমরা ব্রিজটি পরিকল্পনা করেই করেছি। ব্রিজটি মাঝের অংশ হলে তখন সেই অংশ দিয়েই নৌযান চলাচল করতে পারবে বলে দাবি করেন তিনি।

সেতু নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শেখ সালাউদ্দিনের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সেতুটি যেভাবেই নির্মিত হোক আমি চাইব ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া হাট-বাজার যাতে কোনো ভাবেই ক্ষতির মুখে না পড়ে। সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায় কিনা এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত