যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সৌদি আরবের কিছু সরকারি কর্মকর্তা এবং কিছু সৌদি নাগরিকের সঙ্গে ৯/১১-র সন্ত্রাসী হামলাকারীদের দুজনের সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন গোপন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
৯/১১-র হামলায় নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরেই গোপন এমন বিভিন্ন গোপন ফাইল প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি, সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওই হামলার ব্যাপারে আগে থেকেই জানতেন, কিন্তু তারা হামলা বন্ধ করার চেষ্টা করেননি।
তবে নতুন প্রকাশিত ওই নথিতে এমন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি যার ভিত্তিতে সৌদি সরকারকে দায়ী করা যেতে পারে।
৯/১১-র হামলায় ব্যবহৃত বিমানগুলোর ১৯ ছিনতাইকারীর মধ্যে ১৫ জনই ছিলেন সৌদি নাগরিক। তবে সৌদি সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না।
ওয়াশিংটনের সৌদি দূতাবাস এই গোপন নথি প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আবারও সৌদি আরবের সঙ্গে ৯/১১-র হামলায় ব্যবহৃত বিমানের ছিনতাইকারীদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে। এই ধরনের দাবিকে ‘মিথ্যা এবং বিদ্বেষপূর্ণ’ বলেও বর্ণনা করেছে সৌদি দূতাবাস।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২০তম বার্ষিকীতে এই গোপন নথি প্রকাশ করা হল। যে বেশ কয়েকটি গোপন নথি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এফবিআই, তার মধ্যে এটি ছিল প্রথম।
৯/১১-র হামলায় নিহতদের পরিবাররা মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের ওপর নথিগুলো প্রকাশ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। তারা বলছিলেন যে, তিনি যদি নিউইয়র্কে শনিবারের শোক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চান তাহলে বাইডেনকে আগে ওসব গোপন নথি প্রকাশ করতে হবে।
শনিবার প্রকাশিত এফবিআইয়ের ১৬ পৃষ্ঠার ওই নথিতে বেশ কয়েকজন সৌদি নাগরিকের সঙ্গে নওয়াফ আল-হাজমি এবং খালিদ আল-মিধার নামের দুজন ছিনতাইকারীর যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়।
গোপন নথিতে বলা হয়, ছিনতাইকারীরা ২০০০ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। এরপর তারা ওমর আল-বায়ুমি নামের এক সৌদি নাগরিকের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে লজিস্টিক সহায়তা পেয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছিলেন যে, লস এঞ্জেলেসের সৌদি কনস্যুলেটে ওমর আল-বায়ুমির ঘন ঘন যাতায়াত ছিল, যদিও তিনি সেসময় ছাত্র ছিলেন। এফবিআই বলেছে, সৌদি কনস্যুলেটে ওমর আল-বায়ুমির ‘অনেক উচ্চ মর্যাদা’ ছিল। সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হয়।
নথিতে বলা হয়েছে, ‘হাজমি এবং মিধাকে বায়ুমি যেসব সহায়তা দিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল অনুবাদ করে দেওয়া, ভ্রমণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং অর্থ সরবরাহ’।
এফবিআইয়ের নথিতে আরও বলা হয়েছে, ওই দুই ছিনতাইকারীর সঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলেসের কিং ফাহাদ মসজিদের রক্ষণশীল ইমাম ফাহাদ আল-থুমাইরির মধ্যেও সম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সূত্র ওই ইমামকে ‘চরমপন্থায় বিশ্বাসী’ বলে বর্ণনা করেছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, বায়ুমি এবং ইমাম থুমাইরি ৯/১১-র হামলার কয়েক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছিলেন।
৯/১১-র নিহতদের আত্মীয়দের আইনজীবী জিম ক্রেইন্ডলারকে উদ্ধৃত করে এপি বলেছে যে, ‘শনিবার প্রকাশিত নথি ৯/১১-র হামলার জন্য সৌদি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়ে দায়ের করা মামলায় আমরা যে যুক্তি দিয়েছি তার পক্ষেই কথা বলছে’।
৯/১১-র হামলায় সম্পৃক্ত সৌদি নাগরিকদের বিশাল সংখ্যা এবং আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের হাত থাকায় এই চক্রান্তের সঙ্গে সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলে আসছিল।
তবে ৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদনে, ওই হামলার পেছনে সৌদি সরকার বা সৌদির সিনিয়র কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার স্পষ্ট কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই পরস্পরের মিত্র, যদিও মাঝে মাঝে সম্পর্ক খারাপ ছিল।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করেন। তবে ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তুরস্কে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য সৌদি সরকারকে ‘বর্বর’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
