সিট মিলছে না শিক্ষার্থীদের মেসে উঠেছে ভাড়াটে

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৩৪ এএম

রাজশাহীতে স্কুল-কলেজ খোলার পর শিক্ষার্থীরা শহরে আসছেন। আবাসিক হল বন্ধের কারণে মেস খুঁজছেন তারা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মালিক মেস বাতিল করে অন্য ভাড়াটে তুলেছেন। অনেকে একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছেন। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মেসে সিট মিলছে না। যা দু-একটা পাওয়া যাচ্ছে, ছয় মাসের অগ্রিম দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হাজারো শিক্ষার্থী মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহীর অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী মেসে থাকেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলেও থাকেন একাংশ। স্কুল-কলেজ খুললেও আসাবিক হল বন্ধের কারণে মেসে গেলেই সেখানে ‘সিট খালি নেই’ সাইনবোর্ড পাচ্ছেন। রাজশাহী মহানগর মেস মালিক সমিতির তথ্যমতে, শহরে মেস সুবিধা রয়েছে অন্তত ৫ হাজার ভবনে। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা মেসের সংখ্যা ৪৫০টির বেশি। অন্যদিকে রাজশাহী কলেজ, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ, সিটি কলেজ, কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মহিলা কলেজের আবাসন সুবিধা রয়েছে ২ হাজার ৫৪৮ শিক্ষার্থীর। এদের মধ্যে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে অনার্স পড়–য়া শিক্ষার্থীদের কারও জন্য কোনো সিট নেই। এখানে ছেলেদের দুটিতে ৩০০ ও মেয়েদের একটি হোস্টেলে ২০০ জন থাকেন। বাকি সব শিক্ষার্থীকে বাইরে মেসে থাকতে হয়। ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজে ছাত্রদের দুটি ও ছাত্রীদের দুটি হলে ১ হাজার ৬০০ জনের আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর বেশিরভাগকেই মেসে থাকতে হয়। রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে ৩৬০ জন ছাড়াও রাজশাহী সিটি কলেজে ছাত্রদের জন্য ৪৮ এবং কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪০টি আবাসন সুবিধা আছে।

বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চাহিদা মাথায় রেখে রাজশাহীর সাহেববাজার, আলুপট্টি, উপশহর, হেমেতখাঁ, কুমারপাড়া, কাদিরগঞ্জ, কলাবাগান, কাজলা, বিনোদপুর, তালাইমারি, মেহেরচ-ি এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য মেস। এর মধ্যে কাজলা, বিনোদপুর, তালাইমারি, মেহেরচন্ডি এলাকার মেসে থাকেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি এলাকায় নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বসবাস করেন। হঠাৎ স্কুল-কলেজ খোলার পর এসব এলাকার প্রায় সব মেসেই কোনো সিট খালি নেই।

রাজশাহীর সাহেববাজার এলাকায় মেসের সন্ধান করা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কলেজ খুলেছে। করোনার কারণে মেস ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। এখন দুদিন ধরে ঘুরেও কোথাও সিট পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে এক বন্ধুর মেসে থেকে প্রত্যেক দিন সিট খুঁজতে বের হচ্ছি।’

রাজশাহী আরডিএ মার্কেট সংলগ্ন রসুল সুপার মার্কেট ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত মাসের শেষদিকে সব সিট ভর্তি হয়ে গেছে। সাইনবোর্ড টানানোর পরও প্রতিদিন ১০/-১৫ জন সিটের জন্য যোগাযোগ করছেন। এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি।’

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় মেস বলে পরিচিত সাহেববাজারের মোল্লা ভবনের ব্যবস্থাপক মো. জুয়েল বলেন, ‘করোনায় মাসের পর মাস পুরো ছাত্রাবাস ফাঁকা পড়েছিল। স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণার পর চাহিদা বেড়েছে। কয়েক দিনেই মেস ভর্তি হয়ে গেছে।’

রাজশাহী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল খালেক বলেন, ‘হোস্টেল এখন বন্ধ। তবে শুধুমাত্র এইচএসসির জন্য খুলে দেওয়া হবে। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের করোনার নেগেটিভ সনদ নিয়ে এলে হোস্টেলে উঠানো এবং একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদনের জন্য নোটিস দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘দু-একটি ক্লাস মিস গেলেও আমাদের শিক্ষার্থীদের মেসে উঠতে নিষেধ করেছি। কারণ এখানকার মেসগুলো ছয় মাসের অগ্রিম নিচ্ছে। আমরা চাই না ছাত্রছাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ুক।’

রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ অধ্যক্ষ ড. নুরজাহান বেগম বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি, দু-এক দিনের মধ্যেই আমরা হল খুলে দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত