২০১৮ সাল থেকেই তালেবানকে নিয়ে ছক কষছে চীন, আতঙ্কে ভারত

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৪ পিএম

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান নিয়ে ২০১৮ সাল থেকেই একাধিক ছক কষে রেখেছিল চীন। তালেবানও শুরু থেকেই পাকিস্তানকে নয় বরং চীনকেই নিজেদের অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, ভারতের স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন। এই ক্ষেত্রে চীন পাকিস্তানকেও ব্যবহার করেছে। এদিকে আগামী ছয় মাসে চীনের কাছ থেকে বড় বিনিয়োগের আশা করছে তালেবান। খবর: ওয়ান ইন্ডিয়া।

আগামী ছয় মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে বড় বিনিয়োগ করতে পারে চীন। এমনটাই মনে করছে নবগঠিত তালেবান সরকার। গত সপ্তাহে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, তালেবান সরকার চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরে (সিপিইসি) যোগ দিতে চায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সিপিইসি চীনের বহুল আলোচিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ।

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে ২০১৮ সাল থেকে আফগানিস্তানের 'সম্ভাব্য প্রকল্প' নিয়ে তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় ছিল চীন। তালেবানরাও এখন চায় চীন দ্রুত তাদের সরকারের হাত ধরে বিনিয়োগ করুক। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে আফগানিস্তানে তালেবানদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করার পেছনে তবে কী দীর্ঘদিন থেকেই ছক কষছিল চীন? সূত্রের খবর, চীন এবং তালেবানের মধ্যে বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি মৌখিক চুক্তি হয়েছে। যদি তালেবান সরকার বৈশ্বিক স্বীকৃতি পায়, চীন সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প শুরু করবে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে এখনো ব্যাপক ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে চীন একদমই চিন্তিত নয়। উল্টো তারা শুধু তাদের লাভের ঘর পূরণেই ব্যস্ত। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে তাদের একমাত্র শর্ত হল তালেবান সরকার উইঘুর মুসলিমদের আশ্রয় দেবে না। তালেবানরা ইতিমধ্যেই মৌখিক ভাবে সেই প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। আর এখানেই দানা বাঁধছে নতুন উগ্বেগ। এদিকে দিন যত বাড়ছে চীনে ততই নিপীড়ন বাড়ছে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর। দেশে ছেড়ে পালাতেও বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার মুসলিম সংখ্যালঘু।

ওদিকে, গত বুধবারই পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সঙ্গে একটি অনলাইন বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। যাতে অংশ নিতে দেখা যায় চীন, ইরান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলিকে। এই বৈঠকে চীন আফগানিস্তানকে ৩.১০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। স্বল্প বিনয়োগের রাস্তাতে হেঁটে ভবিষ্যতে বড় লাভের অঙ্ক কষছে চীনের কূটনীতিকেরা। আর এ কারণেই বড় বিপদের আশঙ্কায় আতঙ্কিত ভারত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত