মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বুড়িগঙ্গা বাঁচাতে নীতি ও আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনার দাবি

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৫০ পিএম

‘দখল-দূষণে ঢাকার মূল নদী বুড়িগঙ্গা এখন মৃতপ্রায় অবস্থা। এই নদীকে যদি রক্ষা করা না যায়, নদীকে যদি ফিরিয়ে আনা না যায় তাহলে পরিপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বুড়িগঙ্গাসহ দেশের সকল নদীকে দূষণ ও দখলের হাত থেকে বাঁচাতে হলে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম এর দূষণবিরোধী অ্যাডভোকেসি প্রকল্পের আয়োজনে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষায় ‘বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ ও প্রতিকার’ শিরোনামে এক নাগরিক সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

মঙ্গলবার কামরাঙ্গীরচরের শেখ জামাল হাই স্কুলের পশ্চিম পাশে বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
 
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, ২০১৩ সালের পানি আইন অনুযায়ী নদীর প্রবাহ চলবে তার নিজ গতিতে। নদী পাড়ের মানুষকে বোঝাতে হবে যে, নদীর মালিকানা নদী পাড়ের মানুষেরই। নদী পাড়ের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে নদী রক্ষায়।

‘ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর ষাট ভাগ দূষণ হয় শিল্প বর্জ্যের দ্বারা, ত্রিশ ভাগ দূষণ হয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যে আর দশ ভাগ দূষণ সম্পন্ন হয় গৃহস্থালির বর্জ্যের দ্বারা। এই দূষণ প্রতিকারে মানুষকে যেমন সচেতন হতে হবে তেমনি পরিবর্তন আনতে হবে নীতি ও আইনি কাঠামোতে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরে আলম চৌধুরী বলেন, এক সময় আমরা এই বুড়িগঙ্গার নদী পান করতাম। আজকে এই পানির পচা গন্ধে নদীর পাড়ে যাওয়া যায় না। আমরা জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে কাজ করছি। আপনারা সংগঠন হিসেবে এগিয়ে এসেছেন, জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, সকলকে নিয়ে একসাথে যদি বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা যায় তাহলে আমরা বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে পারবো।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান বলেন, নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে আমাদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

নদী পাড়ের মানুষ এবং সরকারের যৌথ চেষ্টায় বাংলাদেশ একদিন পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ বলেন, বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত হলে এই পানি ওয়াসার মাধ্যমে আমরাও ব্যবহার করতে পারবো। ঢাকাবাসী আরও কম খরচে ওয়াসার পানি ব্যবহার করতে পারবে, পানির জন্য পদ্মা কিংবা মেঘনায় যেতে হবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত