ভালো না লাগায় মাদ্রাসা থেকে পালায় তিন ছাত্রী: পুলিশ সুপার

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৫ পিএম

জামালপুরের ইসলামপুর থেকে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর তিন মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রাজধানী ঢাকা থেকে উদ্ধারের পর সংবাদ সম্মেলন করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নিখোঁজের পর গত বুধবার নিখোঁজ মনিরার পিতা মো. মনোয়ার হোসেন ইসলামপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, মাদ্রাসায় পড়তে ভালো না লাগায় ইসলামপুর উপজেলার দারুত তাক্বওয়া মহিলা ক্বওমী মাদরাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির তিন শিক্ষার্থী উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ারচর সরদারপাড়া গ্রামের মাফেজ শেখের মেয়ে মীম আক্তার (৯), গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভূকুড়া গ্রামের সুরুজ্জামানের মেয়ে সূর্যবানু (১০) ও মোল্লাপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনিরা (১১) গত রোববার রাতে পালিয়ে যায়। নিখোঁজ ওই তিনজনকে উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই তথ্য জানিয়েছে। এখন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, বুধবার ইসলামপুর থানার পুলিশ কল্যাণ মার্কেটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ওই তিন ছাত্রী ইসলামপুর রেল স্টেশনের দিকে যাচ্ছে। পরের দিন ইসলামপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. সুমন মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পায় তারা তিনজন কমলাপুর স্টেশনের গেট দিয়ে বাইরে বের হয়ে যাচ্ছে। এই ফুটেজের সূত্র ধরে স্টেশনের বাইরে বিভিন্ন রিকশা, সিএনজি চালক, ভাসমান ও অন্যান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কিশোর রিকশা চালক রাজা মিয়া (১৪) জানায়, সে ওই তিনজনকে স্টেশনে বসে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করে তোমরা কোথায় যাবে। তখন তারা তিনজন জানায়, তাদের বাবা-মা বেঁচে নেই, তাদের ঢাকা শহরে থাকার কোন জায়গা নেই এবং তারা ঢাকায় কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে চলে এসেছে। তখন রিকশা চালক রাজা মিয়া তাদের মুগদার মান্ডা এলাকার এক বস্তিতে এক হাজার পাঁচশ টাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দেয় এবং গার্মেন্টসে তাদের দুজনকে চাকরি নিয়ে দেয়।

তিন ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কোন খারাপ আচরণ না করায় ওই কিশোর রিকশা চালক রাজাকে আটক করা হয়নি।

রাতেই তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে জামালপুরে আনা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, আমরা এই কয়েক দিন শিক্ষার্থী তিনজনকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। এখন তদন্ত করে দেখা হবে মাদ্রাসাতে শিক্ষার্থীদের ওপর কোন প্রকার নির্যাতন করা হয়েছে কিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত