বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাসাগর দিঘিতে ৩০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি কাতলা মাছ ধরা পড়ছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১ দিকে বাপ্পি সরদার নামে এক মৎস্যশিকারির বড়শিতে মাছটি ধরা পড়ে।
বড়শিতে মাছটি ধরা পড়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর মাছটি কিনারে তুলতে সক্ষম হন তিনি।
শুক্রবার সকালে মাছটি দেখতে দিঘি পাড় এলাকায় ভিড় জমান উৎসুক জনতা। মাছটি বর্তমানে দিঘির জলেই জিইয়ে রাখা হয়েছে।
মৎস্যশিকারি বাপ্পি সরদার জানান, তার বাড়ি বরগুনা জেলার কলেজ রোড এলাকায়। বৃহস্পতিবার বিকেল বাবুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাসাগর দিঘির ৪৪ নম্বর সিটে টিকিট কিনে মাছ শিকারে অংশ নেন তিনিসহ তার কয়েকজন শৌখিন মৎস্যশিকারি বন্ধু।
বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে তিনি টের পান তার বড়শিতে বড় ধরনের একটি মাছ আটকা পড়েছে। এরপর তিনি প্রায় ৩ ঘণ্টা চেষ্টার পর মাছটিকে বশে আনেন। খবর পেয়ে দিঘিরপাড়ে হাজির হন তার বন্ধুরা। পরে তাঁদের সহায়তার মাছটি কিনারে তোলা হয়। এরপর দেখতে পান এটি বড় আকৃতির একটি কাতলা মাছ। মাছটির ওজন ৩০ কেজির ওপরে হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই দিনের মাছ ধরার সময়সীমা শেষ হলে এলাকায় গিয়ে মাছটি কেটে বন্ধুদের মধ্যে ভাগ করে নেবেন বলে জানান বাপ্পি।
প্রত্যক্ষদর্শী তপন লাল লস্কর জানান, মাছটি বড়শিতে আটকে যাওয়ার খবর পেয়েই শুভাকাঙ্ক্ষীরা দিঘিপাড়ে চলে আসেন। মাছটি তীরে তোলার পর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ছিল সবার মধ্যে। কারণ, এত বড় মাছ গত ১০ বছরে দুর্গাসাগর দিঘি থেকে শিকারের ইতিহাস নেই।
তবে গত ১৪ জুন এই দিঘিতে ২৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরা পড়েছিল। সোহেল জমাদ্দার নামের এক শৌখিন মৎস্যশিকারি বড়শিতে বাঁধার আট ঘণ্টা পর মাছটি কিনারে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বরগুনা শহরের স্থানীয় ব্যবসায়ী বাপ্পি সরদার বলেন, এটি আমার জীবনে একটি অসম্ভব আনন্দের মুহূর্ত ছিল। কারণ, এত বড় কাতলা মাছ আর কখনো আমার বড়শিতে আটকা পড়েনি। মাছটি বড়শিতে বাঁধার পর থেকেই পুরো দিঘি এলাকায় বেশ হইচই লেগে যায়। মাছটি তীরে তোলার আগ পর্যন্ত এক অকল্পনীয় সময় কেটেছে। আর তীরে তোলার পর মাছটি দেখে আনন্দ ধরে রাখার উপায় ছিল না কারোর।
