কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নকশা অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে ভবন। পৌরভবন এবং উপজেলা পরিষদের নাকের ডগায় এই ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। নকশা বহির্ভূত কাজ করা এবং বিনা অনুমতিতে অন্যের গাছ কাটায় লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিবেশী পৌর আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মিয়া।
অপরদিকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলাও করেছেন নির্মাণকারীর পিতা ফজলুল করিম।
সরেজমিনে দেখা যায়, দাউদকান্দি পৌর ভবনের দুশ মিটার পশ্চিম পাশে এই ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।
তুজারভাঙ্গা গ্রামের ফজলুল করিমের ছেলে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক এই ভবন নির্মাণ করছেন। ইতিমধ্যে ভবনের বেইজ ও কলাম ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। নকশা বহির্ভূত কাজ করায় উপজেলা প্রশাসন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন দাউদকান্দি পৌর আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মিয়া।
তিনি বলেন, আমার বাড়ির পাশে কাজ করছে, আমি জানি না। সে বিল্ডিং কোড আইন অমান্য করে আমার সীমানায় তার ভবনের পিলার দিয়েছে। পৌর সদরে কীভাবে নকশার অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ হয়? নকশা বিহীন ভবন নির্মাণকাজ বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ওই ভবন নির্মাণে ফৌজদারি কার্য বিধির ১৪৫ ধারা মোতাবেক নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ১৭ আগস্ট কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছেন জায়গার মালিক নির্মাণকারী ওমর ফারুকের বাবা ফজলুল করিম।
তিনি বলেন, ছেলের কাছে আমি অসহায়, তাই বাধ্য হয়ে আদালতের গিয়েছি। আর নকশা ছাড়াই ভবন করতে গিয়ে আমার ৫/৬টি ফলদ গাছ কেটে দিয়েছে। আর এখনো প্রশাসন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ভবন নির্মাণকারী কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য ওমর ফারুককে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।
পৌরসভার মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নকশা অনুমোদন ছাড়া কাজ করার কোন এখতিয়ার নেই। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই কাজ বন্ধ করে দিয়ে নকশা অনুমোদনের দরখাস্ত করার জন্য বলেছি। এখন শুনছি সে রাতে কাজ করছে। এমনটা হলে ওই ভবনটি ভাঙা ছাড়া আর কোন পথ দেখছি না।
