কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে ফেসবুকে ছাত্রলীগ নেতাদের একের পর এক ক্ষোভ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০১ পিএম

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ইঙ্গিত করে তাদের সমালাচোনায় মুখর হয়েছেন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা। 

একই সময়ে একাধিক নেতার এ ধরনের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। 

তবে এ বিষয়ে লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘যাদের আদর্শিক দুর্বলতা আছে, তারাই শুধু এগুলো করে।’

ফেসবুকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শওকতুজ্জামান সৈকত ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘কমিটির বয়স প্রায় চার বছরের কাছাকাছি অতিবাহিত করার পরও যখন সাংগঠনিক দায়িত্ব ঠিকঠাক বুঝিয়ে দেওয়া হয় না, কোনো রকম বিভাগীয় ও জেলাভিত্তিক বর্ধিত সভা ডাকা হয় না এবং ১০-১৫টার বেশি জেলার সম্মেলন হয় না। সে কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কীভাবে আমরা সফল বলে দাবি করতে পারি?’

সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম শামীম লেখেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে লেখালেখি করলে ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়া হয়। সেজন্য লিখি না। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় না লিখেও পারি না। নির্বাহী সংসদের অর্ধেকেরও বেশি নেতা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। বাকি অর্ধেক নেতা মধুর ক্যান্টিনে এবং টিএসসিতে আড্ডা দিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন। নেতৃত্বের সাংগঠনিক গুণাবলি বিকাশের ন্যূনতম সুযোগ সৃষ্টি করা হয়নি। প্রায় চার বছর অতিবাহিত হচ্ছে অথচ নির্বাহী সংসদের কাউকেই কোনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি! ছাত্রলীগকে এভাবে পরিকল্পিতভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখার মানে কী? শুধু করোনার দোহাই দিয়ে কি সব দায়ভার এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব?’

ছাত্রলীগের আরেক সহ-সভাপতি সৈয়দ মো. আরিফ হোসেন লিখেছেন, ‘একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পাওয়ার পরেও দু’বছর পার হলো। তবুও বিশেষ পরিস্থিতির অবসান হলো না। কথা বলতে গিয়েও বলি না। কারণ বিদায় মুহূর্তে বিদ্রোহী, ষড়যন্ত্রকারী, অনুপ্রবেশকারী হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘সংগঠন খুবই ভালোভাবে চলছে, এ যাবতকালীন শ্রেষ্ঠ গতিশীল অবস্থা। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া দারুণ। কেন্দ্রীয় নেতাদের কাজ করার অপার সুযোগ দানের জন্য সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক মহোদয় আমৃত্যু শ্রদ্ধার আসনে থাকবেন।’

আরেক সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ লিখেছেন, ‘শোভন এবং রাব্বানী ভাই সাবেক হওয়ার সময় আমাদের মেয়াদ ছিল ছয় মাস। এই ছয় মাসের মধ্যে আমাদের একটি সম্মেলন আয়োজন করার কথা ছিল। অথচ ছয় মাসের জায়গায় আজ আমরা দুই বছর সময় পার করে ফেললাম। এখনো একটি সম্মেলন আয়োজন করতে সক্ষম হলাম না। এখানে যিনিই দায়িত্ব পান তিনিই যেন লঙ্কার রাবণ হয়ে ওঠেন। কিন্তু আপনি কতটুকু সফল, কতটুকু ব্যর্থ, নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন আয়োজন করাও তার একটি। কাকে আমরা দুষবো। আমরা সবাই জানি জমিতে বেড়া দেওয়া হয় ছাগলের হাত থেকে জমি রক্ষা করতে। এখন সেই বেড়াই যদি জমি ভক্ষণ করতে আরম্ভ করে দেয়, তখন আমাদের বিশেষ কী আর করার থাকে?’

তিনি লেখেন, ‘এক সময় ছাত্রলীগের সম্মেলনের মেয়াদ ছিল এক বছর। দেখা যেতো এক বছর না পেরোতেই নেতারা সম্মেলন দিয়ে বিদায় হয়ে যেতেন। এমনও অনেক নজির আছে কোনো কোনো সময় ১০-১১ মাসের মাথায়ই সম্মেলনের আয়োজন করা হতো। এখন সময় অনেক বদলেছে। দেশ অনেক উন্নত এবং আধুনিক হয়েছে। আগেরকার নেতাদের মতো নৌকায় চড়ে সম্মেলন করতে যেতে হয় না। তারপর আবার আমাদের মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দু’বছর করা হয়েছে। এই এতো কিছুর পরও, এতো সুযোগ সুবিধার পরও, আমরা নির্দিষ্ট সময়ে সম্মেলন আয়োজন করতে পারি না। সত্যি কথা হলো আমরা পারি কিন্তু করি না। আমাদের আরও আরও থাকতে হবে, আরও আরও ক্ষমতা আস্বাদ করতে হবে। এই হলো আমরা যারা নেতা হই, তাদের প্রত্যেকের মানসিকতা। যেখানে নৈতিকভাবে আমরা কেউই বলিয়ান নই, শক্তিশালী নই। কেউ ক্ষমতা পাওয়ার পর যখন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকে, ছেড়ে যেতে চায় না, তাকে আমরা কোন মুখে বলবো সে ভালো মানুষ!!’

ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহান খান তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ একটা ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট বডি, সবাই কলিগ এখানে কিন্তু কর্মী নয় কারও। পার্থক্য শুধু কারও চেয়ার বড় বা কারও ছোট। সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক লেখা হয়, মানে সবাই জড়িত এখানে। তাই সফলতা/ব্যর্থতা সবার এখানে। সেজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে অনেক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হচ্ছে, সিনিয়র নেতাদের দ্বারা, যা অনেকের মনের হতাশা বা আক্ষেপ থেকে হচ্ছে।’

লেখক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যাদের আদর্শিক দুর্বলতা আছে, তারাই শুধু এগুলো করে। নেত্রীর প্রতি যাদের আস্থা কম, তারা এগুলো করে। নিজের রাজনীতি যারা নেত্রীর ওপরে, সংগঠনের ওপরে চাপিয়ে দেয় ব্যক্তিস্বার্থে, তারাই এগুলো করে। এরা যুগে যুগে ছিল এবং যুগে যুগে থাকবে। যেভাবে নেগলেক্টেড ছিল, সেভাবে নেগলেক্টেডই থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত