তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সোমালিয়ার কোনো প্রেক্ষাগৃহে পাবলিক শো অনুষ্ঠিত হলো। যাকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণে নতুন আশা বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
বিবিসি জানায়, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রাজধানী মোগাদিসুর ন্যাশনাল থিয়েটারে স্থানীয় নির্মাতা ইব্রাহিম সিএমের দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি প্রদর্শিত হয়।
থিয়েটারটি আত্মঘাতী বোমা হামলা ও যুদ্ধবাজদের ঘাঁটি হিসেবে এক সময় ব্যবহৃত হয় বলে জানায় সংবাদমাধ্যম। সে হুমকি এখনো বলবৎ রয়েছে।
থিয়েটারটির পরিচালক আবদিকাদির আবদি ইউসুফ এ প্রদর্শনীকে ‘সোমালি জনগণের জন্য ঐতিহাসিক রাত’ বলে বর্ণনা করেন।
অনেক বছরের চ্যালেঞ্জের পর এই প্রদর্শনী নতুন আশা তৈরি করেছে বলেও জানান তিনি। যা সোমালি গীতিকার, গল্পকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতাদের জন্য নতুন সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।
১০ ডলারের বিনিময়ে দর্শকেরা প্রদর্শনীতে ‘হোস’ ও ‘ডেট ফ্রম হেল’ নামের দুটি ছবি দেখার সুযোগ পান।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একাধিক তল্লাশির মাধ্যমে দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশ করে। প্রেক্ষাগৃহটি গ্রিনজোনে অবস্থিত, যেখানে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সংসদ ভবন রয়েছে।
প্রদর্শনীতে উপস্থিত ওসমান ইউসুফ অতীত স্মৃতি হাতড়ে বলেন, পুরোনো সোনালি দিনগুলোতে এ ন্যাশনাল থিয়েটারে কনসার্ট, নাটক, পপ শো, লোক নাচ ও সিনেমা দেখেছেন।
আরও বলেন, মোগাদিসুর রাতের জীবন দেখে তার খারাপ লেগেছে, কিন্তু এবার শুভ সূচনা হলো।
১৯৬৭ সালে চীনের নেতা মাও সেতুং-এর উপহার হিসেবে চীনের প্রকৌশলীরা নির্মাণ করেন থিয়েটারটি। ১৯৭০ ও ৮০ এর দশকের সোমালিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সোনালি দিনের সাক্ষী হয়ে আছে এ স্থাপনাটি।
১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে ন্যাশনাল থিয়েটার বন্ধ হয়ে যায়, রাজধানীতে যুদ্ধবাজদের একটি ঘাঁটিতে পরিণত হয়। ২০১২ সালে আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশন ইন সোমালিয়া প্রেক্ষাগৃহটি পুনরায় চালু করে। কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব সরাসরি বিনোদন অনুষ্ঠান ও সিনেমাকে নৈতিকভাবে খারাপ দাবি করে ভবনটি তাৎক্ষণিক উড়িয়ে দেয়।
