পদ্মার গর্ভে প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৯ পিএম

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চরসিলিমপুর এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে শুক্রবার চরসিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে আছে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িসহ নানা স্থাপনা।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী শহর রক্ষায় পদ্মা নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ কাজ হয়েছে মোট সাড়ে সাত কিলোমিটার এলাকায়। এরমধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর আর বরাট ইউনিয়নে পাঁচ কিলোমিটার নতুন করে নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়। অপরদিকে আড়াই কিলোমিটার পূর্বের কাজও সংস্কার করা হয়।  কাজের মোট ব্যয় ধরা হয় ৩৭৬ কোটি টাকা।

আরও জানা যায়, কাজটি বাস্তবায়ন করে খুলনা শিপ ওয়ার্ড। ২০১৮ সালের জুনে শুরু হয় কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুনে। কাজের মেয়াদ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক বছর বাড়িয়ে চলতি বছরের  মে মাসে শেষ করে। তবে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এখনো কাজ বুঝে নেয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। এই সময়ে ভেঙে যাওয়া এলাকা মেরামত করে কাজ আমাদের বুঝিয়ে দেবে।

চরসিলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সবদুল হোসেন বলেন, নদীর এখানে আগে অনেক বসতি ছিল। ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। আগে খুব জনবসতিপূর্ণ এলাকা ছিল। কিন্তু নদী ভাঙনের ফলে অনেকেই বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে যায়।

তিনি আরও বলেন, সাংসদের প্রচেষ্টায় নদী শাসনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেল। এই এলাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চিত হয়ে গেছে। আশপাশে আর কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

এলাকার রুহুল আমিন বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিক থেকে ভাঙন শুরু হয়। কয়েক দিন আগেও ভাঙন হয়ে ছিল। মাঝখানে কয়েক দিন বন্ধ ছিল। আজ হুট করে ভাঙন শুরু হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের কিছু আসবাবপত্র পাশের টিনশেড ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভাঙন বন্ধ না হলে অনেক পরিবার বসতবাড়ি হারাবে।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু তালেব বলেন, বিদ্যালয়টি আমাদের স্মৃতি বিজড়িত।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, আমরা আগে থেকেই এখানে কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে। ভাঙন যাতে আর বৃদ্ধি না পায় এবং এই এলাকা রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত