ভারতে বিয়ের মাধ্যমে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার বিষয়টি বোঝানোর জন্য একটি বহুল ব্যবহৃত রাজনৈতিক বাক্য হল ‘লাভ জিহাদ’। এই বাক্যটি এবার আহমেদাবাদ রাজ্য সরকারের একটি প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে স্থান পেয়েছে। গত সপ্তাহে পুলিশের মহাপরিচালককে (ডিজিপি) চিঠি লেখার সময় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই শব্দটি ব্যবহার করেছিল। যেখানে একে একটি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রথম ভারতের সরকারি কোনো নথিতে ‘লাভ জিহাদ’কে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হল।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আইন-শৃঙ্খলা) নিখিল ভাট গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডিজিপি আশীষ ভাটিয়ার কাছে চিঠি পাঠালে প্রথমবারের মতো ‘লাভ জিহাদ’কে অপরাধের ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং গুরুতর অপরাধগুলো ইলেকট্রনিক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলার আগেই সেগুলো সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে সজাগ হওয়ার কথা বলা হয় ওই চিঠিতে।
ভাটের চিঠিতে লেখা আছে, ‘আমি বলছি যে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুতর ঘটনা/অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ...’। চিঠিতে তখন অন্যান্য অপরাধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘… সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা/ঘটনা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, নিষিদ্ধ/জুয়া/মাদক সম্পর্কিত এসএমসি অভিযান, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, বড় অর্থনৈতিক অপরাধ…’।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘... রাজনৈতিক ঘটনা, জমি দখল সংক্রান্ত অপরাধ, লাভ জিহাদ সম্পর্কিত অপরাধ, মানবসৃষ্ট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বড় সড়ক দুর্ঘটনা; এই বিষয়গুলি ইলেকট্রনিক মিডিয়া/সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তোলার অনেক পরে গিয়ে সরকারি লোকজন সজাগ হয়’।
স্বরাষ্ট্র বিভাগ অতিরিক্ত ডিজিপি (আইন ও শৃঙ্খলা) নারসিমহা কোমরকে নোডাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করেছে। সিনিয়র পুলিশদেরকে এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো দ্রুত তার নজরে আনতে হবে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
জুন মাসে গুজরাট ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন অ্যাক্ট সংশোধন করে গুজরাটের রাজ্য সরকার আন্তঃধর্মীয় বিয়ের মাধ্যমে ধর্মান্তরণকে একটি আদালতগ্রাহ্য বা আইনগত অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করে। তবে গুজরাট হাইকোর্ট এই সংশোধনীর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ওই সংশোধনীটি স্থগিত করে।
‘লাভ জিহাদ’কে আইনগতভাবে অপরাধ হিসেবে ঘোষণার ব্যাপারে অনেক মহল থেকেই তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে। গুজরাটের সংখ্যালঘু সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মুজাহিদ নাফীস অতিরিক্ত সচিবকে চিঠি লিখে বলেছেন যে, লাভ জিহাদ বাক্যটির অপব্যবহার হয়েছে।
নাফিস লিখেছেন, ‘জিহাদ’ শব্দটি ইসলামের একটি পবিত্র শব্দ, যা সংগ্রামের অর্থ বহন করে। ‘আপনি যদি উর্দু বা আরবি কোন পণ্ডিতকে জিজ্ঞেস করতেন, তাহলে আপনি এর গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারতেন। এই শব্দটি ইসলামে কোনো অন্যায় কাজে ব্যবহৃত হয় না’।
