পৌর কর্তৃপক্ষ আবর্জনা অপসারণ না করায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আর্বজনার স্তূপ জমে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকরা। এক মাস ধরে এমন অবস্থা থাকার পর গতকাল রবিবার দুপুর থেকে আবর্জনা অপসারণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে সব ময়লা অপসারণ করতে চার-পাঁচ দিন লেগে যাবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলে এ কদিন রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের ভোগান্তি সইতে হবে।
জানা যায়, মাসখানেক আগে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা হঠাৎ করেই বর্জ্য অপসারণ বন্ধ করে দিলে হাসপাতাল চত্বরে ময়লার স্তূপ জমতে থাকে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে হাসপাতাল এলাকাসহ আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। রোগীদের জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসকদের কাছে যেতে হয় নাকে রুমাল দিয়ে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জনবল, যন্ত্রপাতি, তদারকির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে রয়েছে তারা। জরুরি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কোনো রোগী মুমূর্ষু হয়ে পড়লে রোগীর ডাক্তার যাওয়ার যে পথ রয়েছে সেটি বর্তমানে বর্জ্য স্তূপে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে ওয়ার্ডে যেতে হলে অনেক ঘুরতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে বর্জ্য স্তূপের মধ্য দিয়েই জরুরিভাবে রোগীর ওয়ার্ডে যেতে হয় ডাক্তারকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজে-কলমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও আন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকে তিন শতাধিক রোগী। আর সব মিলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নেয় দেড় হাজারের বেশি রোগী। রোগীর সঙ্গে স্বজনরাও আসেন। সবাইকেই এ আবর্জনার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রেমা নামে এক রোগীর স্বজন শফি আহমেদ বলেন, ‘রোগীদের ওয়ার্ডের পাশেই বর্জ্যরে স্তূপ। এখান থেকে হাসপাতাল জুড়েই দিনরাত দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে হাসপাতালের পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, রোগীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।’ জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এএসএম ফাতেহ আকরাম পৌর কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করে বলেন, ‘গত প্রায় এক মাস ধরে ময়লা অপসারণ বন্ধ রয়েছে। পৌর মেয়র ও সচিবকে একাধিকবার জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এখন বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে আলোচনায় আসায় ওনারা আবর্জনা অপসারণ শুরু করেছেন।’
চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক খোকন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ‘পৌরসভার ময়লার গাড়ি নিয়মিত হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ করে আসছে। তবে কর্মীদের কিছু অব্যবস্থাপনার জন্য কয়েক দিন ধরে হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি। বিষয়টি জানার পর দ্রুত হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি। অনেক দিনের জমানো ময়লা অপসারণ করতে চার-পাঁচ দিন লেগে যাবে। এখন থেকে হাসপাতালের ময়লা অপসারণের বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করা হবে।’
