মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চিত্রা নদীতে নৌকা বাইচ, দুই পাড়ে লাখো মানুষের ঢল

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৪৫ পিএম

নড়াইলের চিত্রা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন পর নৌকা বাইচকে ঘিরে চিত্রা নদীর চার কিলোমিটার জুড়ে নদীর দুই পাড় ছিল লাখো মানুষের ভিড়। আনন্দ উচ্ছ্বাসে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেছেন নানা বয়সী মানুষ।

শনিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২১ উপলক্ষে বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড ও নড়াইল জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

শেখ রাসেল সেতু চত্বরে ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস এসএম সুলতান নৌকা বাইচ’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বে-সামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এমপি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। শেখ রাসেল সেতু থেকে শুরু হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার নদীপথ অতিক্রম করে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান সেতুতে গিয়ে শেষ হয়।

image

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-২ আসনের সদস্য সদস্য ও জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, বে-সামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, এনডিসি, নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় (পিপিএম), জেলা আ. লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলু, পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, বিশ্ব পর্যটন দিবস এসএম সুলতান নৌকা বাইচ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মিকু সহ অনেকে।

প্রতিযোগিতায় নড়াইল, খুলনা, গোপালগঞ্জ সহ পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আসা কালাই ও টালাই ২টি গ্রুপে মোট ১৪টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে রূপগঞ্জ বাঁধাঘাটে বিজয়ীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।

নৌকা বাইচ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বহিরাগত দর্শনার্থীদের ট্রলার নৌকা বাইচ এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রশাসন।

লোহাগড়া উপজেলার বাড়ীভাঙ্গা গ্রামের রুবেল হোসনে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা করোনায় ঘরে বন্দি ছিলাম। আজকে নৌকা বাইচ দেখতে পেরে ভীষণ মজা পেয়েছি।’

মাগুরার মহাম্মদপুর এলাকার দর্শনার্থী আফসানা জ্যোতি বলেন, ‘নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এভাবে বেশি বেশি আয়োজন করা হলে আমরা ফেসবুক, ইউটিউব, মোবাইল গেম থেকে কিছুটা হলেও নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে পারব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত