মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘বেহায়াপনা’ ঠেকাতে সিলেটে কাশবনে আগুন

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৪ পিএম

কাশবনে বেড়ানোর নামে তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ ‘বেহায়াপনায়’ মেতে ওঠেন- এমন অভিযোগে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় একটি কাশবন আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা চিহ্নিত হয়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের পাশে গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌঘরী এলাকায় একটি কাশবন রয়েছে। ওই এলাকার এক ব্যক্তি সেখানে বালু জমিয়ে রাখায় বালুমাটিতে কাশবনের জন্ম হয়েছে। এ বছর শরতে বনে অনেক কাশফুল ফুটেছে।

কাশবনের সৌন্দর্যের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে প্রতিদিনই দর্শনার্থী ভিড় করতেন। তবে বিষয়টি ভালো চোখে দেখছিলেন না স্থানীয় কিছু ব্যক্তি। কাশবনে ঘুরতে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে তারা বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতেন।

শুক্রবার ছুটির দিনে কাশবনে প্রচুর দর্শনার্থী সমাগম হয়েছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। সন্ধ্যার পর একদল লোক সেখানে গিয়ে বনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় কিছু দর্শনার্থী আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। অন্যরা ভয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।

আগুনে বনটি পুড়ে ছাই হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ অসামাজিকতা বন্ধে পদক্ষেপটি সঠিক বলে মন্তব্য করছেন।

রাসেল নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অপরাধ করলে মানুষ করেছে, কাশবনের তো কোন দোষ নেই। তাহলে আগুনে পোড়ানো হলো কেন। মানুষ এত নিকৃষ্ট হতে পারে ভাবা যায় না’।      

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাশবনে অনেকে বেড়াতে যেত। শুক্রবার রাতে কে বা কারা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে শুনেছি’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্থানীয়রা আগুন দেয়নি, বরং স্থানীয় অনেকে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছেন’।  

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম কবির জানান, কাশবনটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে। কে বা কারা সেটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কাজটি সঠিক হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত