রাজধানীর মিরপুর থেকে এবার চার মেয়েশিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকা থেকে দুই ও ২৯ সেপ্টেম্বর আনসার ক্যাম্প এলাকা থেকে দুই মেয়েশিশু নিখোঁজ হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে নিখোঁজের পরিবার।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্লবীর বাসা থেকে বের হয়ে তিন কলেজছাত্রী নিখোঁজ হয় বলে পরিবার অভিযোগ করে। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও ফোন নিয়ে যায়। ঘটনার পাঁচ দিন পরও তাদের খোঁজ মেলেনি।
সোমবার মিরপুর মডেল থানার ওসি মেস্তাজিজুর রহমান বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে মিরপুরের জনতা হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হয় দুই শিশু। তাদের একজনের বয়স ১৪ ও অপরজনের ১৩ বছর।
তিনি জানান, এ ঘটনায় ওই বাসার গৃহকর্মী পরদিন শনিবার একটি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখ করেছে, শুক্রবার বিকালে তারা বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। এদের মধ্যে একটি মেয়ে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার বাবা নেই। মা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অন্যজন ওই বাসারই গৃহকর্মী।
ওসি মেস্তাজিজুর রহমান বলেন, এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকা থেকে আরো দুই শিশু নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের একজনের বয়স ১৩ আরেকজনের ১০। তারা প্রতিবেশী। এ ঘটনায় এক শিশুর মা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এদের মধ্যে একটি শিশু কলম কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ করে তার সন্ধান পায়নি পরিবার। আরেকজনের বাবা রিকশাচালক।
ওসি বলেন, চার শিশুকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে মিরপুরের পল্লবী এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী বিষয়ে মিরপুর পল্লবী জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থী এখনো উদ্ধার হয়নি। অভিযান চলছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, দেশের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ও নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের সন্দেহ তারা কোনো মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছে। তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে মো. রকিবল্লাহর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর তিন আসামির বয়স নির্ধারণের পর রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে তারা এখন পর্যন্ত দেশে আছে বলেই আমাদের কাছে তথ্য আছে। যেহেতু ওই শিক্ষার্থীদের কোনো পাসপোর্ট নাই, ধরেই নেওয়া যায় বৈধ উপায়ে তাদের দেশ ত্যাগের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ পথে যাতে তারা দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেটা নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের খোঁজ বের করতে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা রোববার বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের পাশাপাশি টিকটকসহ সম্ভাব্য অপহরণকারী চক্র জড়িত কি না তদন্ত চলছে। এর আগে টিকটক চক্র ভারতসহ বিভিন্ন দেশে নারী পাচার করেছিল। নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন খুবই উচ্চাভিলাষী। ধারণা করা হচ্ছে, তার সঙ্গে টিকটক চক্রের যোগাযোগ রয়েছে। সে-ই অন্য দুই শিক্ষার্থীকে কৌশলে সঙ্গে নিয়ে পাচারকারীদের সঙ্গে লাপাত্তা হয়েছে।
