রাজনীতি-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে দেশের মানুষ

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:০২ এএম

স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এ দেশের রাজনীতিকদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। একটি সময় ছিল যখন গণমানুষের রাজনীতি করা মানুষরা জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তেন। অনেকে সহায় সম্পদ হারাতে থাকতেন। এতেই তাদের আনন্দ ছিল। আর আজকাল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজনীতি করার অর্থ হচ্ছে নানা উপায়ে সম্পদশালী হওয়া। বঙ্গবন্ধু জীবদ্দশায় রাজনীতিকদের স্খলন দেখে কম মনস্তাপ করেননি। ১৯৭৫ উত্তর রাজনীতি আরও অন্ধকারে নিপতিত হয়। এখন অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতিকদের মধ্যে আদর্শ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

রাজনীতি বিষয়টি মানব জীবনের সমান বয়সী নয়। অর্থাৎ মানব জন্ম ও পৃথিবীতে তার বিচরণের অনেক পরে রাজনীতির ধারণা ও কাঠামো তৈরি হয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ শিকারের প্রয়োজনে গোষ্ঠীবদ্ধ জীবনের সূচনা করেছিল। নবোপলীয় যুগে কৃষিসভ্যতার সূচনায় দলবদ্ধ হতে হয়েছিল মানুষকে। শক্তি ও বুদ্ধির বিবেচনায় সে সময়ও গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষের মধ্য থেকে দলপতির অবস্থানের কথা জানা যায়। কিন্তু তখনো রাষ্ট্রের ধারণা স্পষ্ট না হওয়ায় রাজনীতির জন্ম হয়নি। এরপর প্রাগৈতিহাসিক যুগ পেরিয়ে মানুষ যখন নগরসভ্যতার পত্তন ঘটায় তখন স্বাভাবিকভাবেই জীবন নির্বাহ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর বিন্যাস সবকিছুর সুনিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রক বা পরিচালক গোষ্ঠীর প্রয়োজন অনুভূত হয়। এভাবেই রাজা-মন্ত্রীর ধারণার মধ্য দিয়ে রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়। রাজতন্ত্রের ধারণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সময়ের বাস্তবতায় অঞ্চলভেদে কখনো অভিজাততান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক, একনায়কতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক নানা ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। তবে জন্মকাল থেকে শুরু করে বহুকাল পর্যন্ত রাজনীতির আভিজাত্য ছিল। রাজনীতিবিদরা সমাজের মানুষের চোখে নমস্য ছিলেন। তারা এখনকার অনেক রাজনীতিকের মতো ভুঁইফোড় প্রতিশ্রুতিবাজ ছিলেন না। তারা রীতিমতো রাজনীতিচর্চা করে নিজেদের যোগ্য করে তুলতেন। জনকল্যাণই যে রাজনীতিকের ব্রত এটা বিশ্বাস করতে চাইতেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নানা চেষ্টা সব সময়ই চলত, তবে জনগণকে অস্বীকার করে নয়। এ কারণে আধুনিক যুগের সূচনায় ইউরোপে প্রজাতন্ত্র-অভিজাততন্ত্র ভেঙে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশ্ব ইতিহাস একে নিন্দার্থে দেখেনি। বলেছে Enlightened
Despotism বা বুদ্ধিদীপ্ত স্বৈরাচার। অর্থাৎ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার ভঙ্গুর দশা যখন সমাজ জীবনকে শান্তি দিতে পারছিল না তখন ক্ষমতা দখল করেন যিনি, তিনি তার স্বৈরাচারী শক্তিতে সব ঘুণে ধরা কাঠামো ভেঙে শক্ত হাতে জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। অর্থাৎ রাজনীতির আদর্শ যে জনকল্যাণ এ সত্য কোনো ব্যবস্থার রাজনীতিবিদরাই বিস্মৃত হননি।

চৌদ্দ, পনেরো, ষোলো শতকের বাংলার তুর্কি সুলতানরা দিল্লি­র সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। প্রত্যেক সুলতান জনকল্যাণের আদর্শকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। সুলতান ও সুফি সাধকদের মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে এ পর্বে বাংলায় একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। উজ্জ্বল হয়েছিল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। ঔপনিবেশিক যুগে ব্রিটিশ শাসনবিরোধী সব আন্দোলনে বাংলা তথা ভারতের রাজনীতি দেশ ও জনকল্যাণের আদর্শ বিচ্ছিন্ন হয়নি। এ কারণে জনচেতনায় রাজনীতি হারায়নি এর মাহাত্ম্য। এরপর উপমহাদেশে ভারত বিভাগোত্তর রাজনীতিতে ধীরে ধীরে দুষ্টগ্রহ প্রভাব ফেলতে থাকে। রাজনীতিতে দল-মতের বিভাজন থাকবেই। মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের আদর্শ বিচ্যুত না হওয়াই ছিল রাজনীতির আদর্শ। এই সত্যটিকে অস্বীকার করে ‘দলতন্ত্র’ নামে একটি নতুন তন্ত্র জায়গা করে নেয় রাজনীতিতে। আমাদের দেশে দলতন্ত্র প্রবল প্রতাপে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে সরবে অবস্থান গ্রহণ করতে থাকে স্বাধীনতা-উত্তরকাল থেকে। প্রবল দলগুলোর একটিই লক্ষ্য থাকে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছানোর। রাজনীতিতে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছার লক্ষ্য নিন্দার নয় বরঞ্চ কাম্যই হওয়ার কথা। রাষ্ট্রক্ষমতায় না পৌঁছাতে পারলে জনকল্যাণে কর্তব্য পালনের মোক্ষম সুযোগ তো পাওয়া যাবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের আস্থায় এসে বড় দলগুলোর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া, ফিরে আসা এবং টিকে থাকার সম্ভাবনা সব সময় থাকে। এ কারণে সব রাজনৈতিক দলের যার যার অবস্থানে থেকে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটানো প্রয়োজন। কর্তব্য জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়া।

কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে দলতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্র বলয়বন্দি হতে থাকে। দেশপ্রেমের চেয়ে দলপ্রেম প্রাধান্য পাওয়ায় জনগণের মতামতকে গৌণ করে ফেলেন আমাদের রাজনীতিবিদরা। বঙ্গবন্ধুর বাকশাল গঠনের পেছনে সে সময়ের রাজনীতিকে সুস্থির করা এবং অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনের এটি একটি প্রত্যাশা ছিল বটে, কিন্তু এর প্রয়োগে কিছুটা ধোঁয়াটে অবস্থা থেকে যায়। বাকশাল গঠনের ভেতর দিয়ে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার একটি মহৎ উদ্দেশ্য সক্রিয় ছিল। কিন্তু বাকশালপ্রণেতারা সে সময়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আমলে না এনে এবং জনগণের মতামতকে বিচারে না এনে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়েছিলেন। সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় না রেখে মহৎ পরিকল্পনা করলেও তা অদূরদর্শিতার কারণে কীভাবে বুমেরাং হয় ভারতের ইতিহাসে সুলতান মোহাম্মদ বিন তুঘলক তো অনেক আগেই নিজেকে দিয়ে তার প্রমাণ রেখে গেছেন। অবধারিতভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও ওলটপালট হয়ে গেল। দেশি-বিদেশি কুচক্রী মহল সময়ের সুবিধা নিয়ে সাফল্যের সঙ্গে ধূম্রজাল ছড়াতে পারল। এর পথ ধরেই পঁচাত্তরের মর্মান্তিক হত্যাকা- ঘটল। অন্যদিকে, মুক্তিযুদ্ধের চার বছর পরই বিএনপি নামের নতুন দল মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের নিয়ে ক্ষমতাসীন হয়ে দাপটের সঙ্গে রাজনীতির মাঠ দখল করতে থাকে। এ দেশের রাজনীতির চারণভূমি তলিয়ে যেতে থাকে বিভ্রান্তির আবর্তে। দেশ বিভাজিত হলো মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ ও বিপক্ষ শক্তির অদৃশ্য ব্যানারে। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে এই দুঃসময়ে যেমন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখানোর কথা ছিল তা যেন এক রকম নির্বাসিতই হতে থাকল। এই পরিবর্তিত অবস্থায় দেশপ্রেম ও জনগণের শক্তির প্রতি আস্থা রাখার মতো মনের জোর যেন আর স্পষ্ট হলো না কোনো পক্ষের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে। সব পক্ষ গণতন্ত্রের মহাসড়ক দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছার মতো আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারল না। যে যার মতো করে খুঁজতে লাগল এঁদো কাদাময় গলিপথ। এই বাস্তবতায় সব রাজনৈতিক দল জনসম্পৃক্ততাবিহীন কপট গণতন্ত্রের পসরা সাজায় রাজনীতির মঞ্চে। সাধারণ মানুষ তাদের আচরণে কতটা আস্থাশীল হলো কী হলো না তাকে পরোয়া করার প্রয়োজন বোধ করে না কেউ। ক্ষমতার রাজনীতির এক অশুভ প্রতিযোগিতায় দলীয় শক্তি বাড়াতে ঘর্মাক্ত হতে থাকে সব পক্ষ। তবে অবশ্যই তা জনশক্তির ওপর ভর করে নয়। প্রতিযোগিতায় টেকার জন্য ভরসা করতে থাকে অর্থশক্তি আর পেশিশক্তির ওপর। এমন অসুস্থ ধারায় রাজনীতিকরণ হতে থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন, বণিক সংঘ থেকে শুরু করে নানা পেশাজীবী সংগঠনে। এসব প্রতিষ্ঠানের রাজনীতি-সংশ্লি­ষ্টরা দলীয় রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি করতে গিয়ে যুক্তিবুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে নিজ নিজ দলের জিন্দাবাদ দিতে থাকেন। তাই যখন একজন দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী নেতা নানা মাধ্যমে জনসম্মুখে বক্তব্য দেন তখন মনে হয় না মুক্তবুদ্ধি তাদের চালিত করে। বিবেকের শাসনের বদলে দলীয় নেতা-নেত্রীরা কোন শব্দ চয়নে সন্তুষ্ট হবেন তার প্রতিযোগিতায় মত্ত হন। ভালো মানুষ আর দেশপ্রেমিক রাজনীতিকরা মন্দের ভিড়ে কেবলই হারিয়ে যাচ্ছেন। তাই সাধারণের চোখে রাজনীতিবিদদের দাপুটে গোষ্ঠী এখন মিথ্যাচারী, দুর্নীতিপরায়ণ, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী। রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া আসা করা দলগুলোর নেতা-নেত্রীরা কোনো রকম বিব্রত না হয়েই প্রতিদিন বক্তৃতার মঞ্চে পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছেন বিরতিহীনভাবে।

এসবের অবশ্যম্ভাবী প্রতিফলন হিসেবে ‘রাজনীতি’ একটি নেতিবাচক শব্দে পরিণত হয়ে গেছে সমাজে, যা কাম্য নয়। উপমহাদেশ জুড়েই একই বিপন্ন দশা। তাই চলচ্চিত্র, নাটক, কৌতুক অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দানকারী ভিলেনে পরিণত হচ্ছেন। আমাদের সমাজে সাধারণ মানুষের মনোভাব কী? অধিকাংশ অভিভাবক সন্তানকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর আগে দিব্যি দিয়ে বলেন তারা যেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না হয়। সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে ধরেই নেন ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী। মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই অঞ্চলে ঢুকতে মানা। রাজনীতি করা শিক্ষক, আইনজীবীসহ সব পেশাজীবীর দিকে বাঁকা চোখে তাকায় সুস্থতাপ্রত্যাশী মানুষ। পরিবারনিয়ন্ত্রিত রাজনীতি আর দলতন্ত্রের রাজনীতি আমাদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে অনেক বেশি দুর্বল করে দিচ্ছে। নেতা-নেত্রীদের রাজনৈতিক ঝগড়া তালেবে এলেমদেরও সংক্রমিত করছে। রাজনীতিতে এখন আর সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য নেই। একটি উগ্র রাজনীতিকরণ চলছে চারদিকে। যে দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন সব ক্ষেত্রে শুধু সেই দলের নেতাকর্মীদেরই যেন অধিকার। চাকরি-বাকরি থেকে শুরু করে কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার সব ক্ষেত্রে খোঁজ করা হয় তাদের দলের প্রতি অনুগত কারা। বিএনপি আমলে রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার পান বিএনপিমনস্ক ‘প্রতিভাবান’রা। আর আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। দলনিরপেক্ষরা শত প্রতিভাবান হলেও তাদের তালিকার বাইরে রাখা হয়। সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক দুঃখ করে বললেন, আমাদের এখানে বড় করে আয়োজন হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ওপর বক্তৃতার। আপনাদের বিশ^বিদ্যালয়ের দুজন অধ্যাপকের নাম প্রস্তাব করতে পারেন যারা বিশ^বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এরপর সলজ্জ কণ্ঠে বললেন, এই আলোচনায় আপনাকে পেলে আমি বেশি খুশি হতাম। বঙ্গবন্ধুর ওপর আপনার বইপত্র ও অনেক লেখালেখি আছে। আপনারই থাকা উচিত এই বক্তৃতা আয়োজনে। কিন্তু আপনি শিক্ষক রাজনীতিতে যুক্ত থাকেন না বলে আপনার নাম প্রস্তাব করতে পারছি না। আমি বললাম, ঈশ^রকে ধন্যবাদ যে আমি শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকি না। এসব নানা বাস্তবতায় এখন এ দেশের মানুষ চলমান রাজনীতিতে তেমন আকর্ষণ বোধ করছে না। তারা ক্রমেই রাজনীতি-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে। এ সত্য আমাদের ক্ষমতাবান রাজনীতিকরা অনুধাবন করবেন বলে আশা রাখি।

অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত