রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ পাঁচ মেয়েশিশু উদ্ধার হয়েছে। সোমবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও মিরপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করে। তবে একই এলাকা থেকে নিখোঁজের ছয় দিন পরও তিন কলেজছাত্রীর কোনো সন্ধ্যান পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এ এস এম মাহাতাব উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পৃথক অভিযান চালিয়ে ঢাকার সদরঘাট ও নেত্রকোনা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া চার শিশুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি ও থানা পুলিশ জানতে পেরেছে, এদের মধ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকা থেকে নিখোঁজ দুই শিশু পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়ে পথে কোন একটি চক্রের ফাঁদে পড়ে। তাদের সদরঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৩ অক্টোবর মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকা থেকে নিখোঁজ দুই শিশু নেত্রকোনা থেকে উদ্ধার হয়। এরা তাদের ঘনিষ্ঠ দুই তরুণের সঙ্গে দেখা করতে মিরপুর থেকে নেত্রকোনায় গিয়েছিল। তাদের উদ্ধারের সময় রাব্বি ও সাগর নামে দুই তরুণকে আটক করা হয়েছে। এদের সঙ্গে দেখা করতেই তারা ঘর ছেড়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে গাজিপুর থেকে নিখোঁজ আরেক শিশুকে উদ্ধার করেছে রূপনগর থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে রূপনগর থানার এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, ওই শিশু রূপনগরের একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পরিবারে অভিমান করে ঘর ছেড়েছিল। তাকে উদ্ধার করে পরিবারে কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সদরঘাট থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুদের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির উপ-কমিশনার মানস কুমার মঙ্গলবার বিকালে জানান, উদ্ধারের পর শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। প্রাথমিকভাবে শিশুরা জানিয়েছে, বাবা-মায়ের বকুনির কারণে তারা অভিমান করে একসঙ্গে বাসা থেকে বের হয়। এরপর তারা পথে কোনো একটি খারাপ চক্রের খপ্পরে পড়ে। পরে কৌশলে চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায়। এরপর তারা নিজেরাই সদরঘাটে যায় বরিশালের উদ্দেশ্যে। এদের মধ্যে এক শিশুর নানা বাড়ি বরিশালে। লঞ্চে করে সেখানেই যাওয়ার চিন্তাভাবনা ছিল তাদের।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই শিশুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তা এসআই কামসাল পাশা তাদেরকে ওসিসিতে নিয়ে যায়। কেন তাদেরকে ওসিসিতে নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে ওসিসির সমন্বয়ক ডা. বিলকিস বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ শিশুদের শারীরিক কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দূর করতে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের ডিএনএ পরীক্ষাও করা হবে।’
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকা এবং ৩ অক্টোবর মিরপুরের জনতা হাউজিং এলাকা থেকে এই চার শিশু নিখোঁজ হয়। জনতা হাউজিং থেকে নিখোঁজ দুই শিশুর একজনের বয়স ১৪, অন্যজনের ১৩ বছর। এই ঘটনায় ওই বাসার গৃহকর্মী পরের দিন শনিবার একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
সেখানে উল্লেখ করেন, শুক্রবার বিকেলে তারা বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। তাদের একজন একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার বাবা নেই। মা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অন্যজন ওই বাসারই গৃহকর্মী।
এদিকে গত ছয় দিনেও পল্লবী এলাকা থেকে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রীকে পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্লবীর বাসা থেকে বের হয়ে তিন কলেজছাত্রী নিখোঁজ হয়। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। মঙ্গলবারও তাদের খোঁজ মেলেনি।
তিন কলেজছাত্রীর বিষয়ে র্যাব-৪ এর পরিচালক মোজাম্মেল বলেন, তাদের খোঁজ পেতে কাজ চলছে। আশা করি শিগগিরই তাদের সন্ধান মিলবে।
