ফেনীর সোনাগাজীতে টিকাদান কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের টিকা দিতে দেরি হওয়ায় হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিক্রম চন্দ্র মজুমদার ও বিনয় চন্দ্র মজুমদার নামে দুই সহোদরের বিরুদ্ধে।
তাদের হামলায় ২ গ্রাম পুলিশসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। রাতে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাসের সমঝোতায় ও স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।
বিক্রম ও বিনয় উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের চর সাহাভিকারী এলাকার চন্দ্রসয় মজুমদারের ছেলে।
আহতরা হলেন, মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ নাছির উদ্দিন, মো. শিমুল এবং স্বেচ্ছাসেবক মো. মুরাদ। অন্য দুজন টিকা প্রত্যাশী। তাদের নাম জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকাল থেকে শত শত নারী-পুরুষ করোনার টিকা নিতে উপজেলার মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মাঠে জড়ো হয়ে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ায়। সকাল নয়টার টিকা দেওয়া শুরু হয়।
বেলা ১১টার দিকে বিক্রম ও বিনয় টিকা কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি টিকার বুথে যাওয়ার চেষ্টা করে বিশৃঙ্খলা শুরু করেন।
এ সময় শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা গ্রামপুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা টিকার কার্ডটি স্ক্যানেনিং করার পর টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়ে তাদেরকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বলেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্রম ও বিনয় গ্রামপুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে চেয়ার দিতে পিটিয়ে হাসপাতালের একটি দরজা, ৩টি জানালা ও একটি স্টিলের আলমারি ভাঙচুর করে।
এমন পরিস্থিতিতে টিকা নিতে আসা লোকজন চারদিকে ছোটাছুটি করে। এ সময় তাদেরকে বাধা দিতে গিয়ে দুই গ্রামপুলিশ ও একজন স্বেচ্ছাসেবকসহ পাঁচজন আহত হয়। এ সময় টিকাদান বন্ধ ছিল।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর আবারও টিকাদান শুরু হয়। আহতরা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, টিকা নিতে আসা বিক্রম ও বিনয়কে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বলায় চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে তার পরিষদের দুই গ্রামপুলিশ ও এক স্বেচ্ছাসেবকসহ পাঁচজনকে আহত করেছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হামলাকারীদের পরিবারের সঙ্গে তিনশত টাকার স্টাম্পে সমঝোতা হলে স্থানীয় মেম্বারের জিম্মায় তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, দৈনিক এক হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এরপরও টিকা নিতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ হাসপাতালে এসে ভিড় জামায়।
লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে বলায় গ্রামপুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পিটিয়ে আহত করেছে বিক্রম ও বিনয় নামে দুজন। ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
হাসপাতালের ভাঙচুরকৃত দরজা, জানালা ও স্টিলের আলমারি ঠিক করে দেয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
