খালি গায়ে এক সৈনিক মাটিতে রাখা একগাদা ভাঙ্গা কাঁচের টুকরার উপর শুয়ে পড়লেন। আরেক সৈনিক এসে তার বুকে একটি মোটা কংক্রিট ব্লক রেখে তার ওপর স্লেজহ্যামার দিয়ে জোরে আঘাত করে তা ভেঙ্গে ফেললেন।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর উন্নয়ন প্রদর্শনীতে এমনই সব নৃশংস ও দুর্ধর্ষ মার্শাল আর্ট দেখিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সৈনিকরা।
সৈন্যরা কংক্রিটের ইটের স্তর ঘুষি মেরে অথবা তাদের মাথা দিয়ে ভাঙছিল।
কয়েকজনের হাতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হচ্ছিল এবং একজন তার বুকে একটি ব্লক ভাঙার জন্য নখের বিছানায় শুয়ে ছিলেন।
আর এসব দৃশ্য দেখে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন হাসস্যোজ্জ্বল মুখে হাততালি দিয়ে বাহবা জানাচ্ছেন। কিমের সঙ্গে তার বিশেষ উপদেষ্টা ও বোন কিম ইয়ো জংসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিতি ছিলেন।
উত্তর কোরিয়ার শাসক শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠার বার্ষিকীর উপলক্ষ্যে গত মঙ্গলবার এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন কেসিটিভিতে তা সম্প্রচার করা হয়।
সৈনিকদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের ছবি দেখিয়ে উত্তর কোরিয়ার বিখ্যাত সংবাদ উপস্থাপক রি চুন হি বলেন, ‘এসব সৈন্যরা আমাদের দলের নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠেছে। তারা কোরিয়ান সেনাবাহিনীর সাহসী যোদ্ধা। নিজেদের শক্তিমত্তা, সাহসিকতা ও দৃঢ় মনোবল প্রদর্শন করে তারা পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে’। মহান নেতা কিম জং উন তাদের এসব শক্তিমত্তা দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন জানান।
কিম জং উন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘বৈরী’ নীতি ও উপদ্বীপকে অস্থিতিশীল করে তোলা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক উন্নয়নের কারণে তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পিয়ংইয়ং কেবল আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে সামরিক বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি করছে এবং তাতে যুদ্ধ শুরুর কোনো ইচ্ছা নেই।
