অষ্টম শ্রেণি : শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৬ এএম

চতুর্থ অধ্যায় : আমাদের জীবনে প্রজনন স্বাস্থ্য

সাধারণ প্রশ্ন

১. প্রজনন স্বাস্থ্য কাকে বলে? অপরিণত বয়সে গর্ভধারণরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন মতামত দাও।

ভূমিকা : জন্ম থেকে মানুষের জীবনের বৃদ্ধি ও বিকাশ এক অবিচ্ছিন্ন ধারায় এগিয়ে চলে। এই এগিয়ে চলার ধারা অব্যাহত রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

প্রজনন স্বাস্থ্য : বিখ্যাত শিক্ষাবিদ আরনেস্ট জোনস বলেন, ‘বিকাশমান জীবনের শুরু থেকে অর্থাৎ জন্ম থেকে প্রৌঢ়ত্ব প্রতিটি স্তরেই তার সাধারণ স্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রজনন স্বাস্থ্যের ব্যাপারটি জড়িত।’ শরীরের যে সব অঙ্গ সন্তান জন্মদানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, সেসব অঙ্গের স¦াস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়কে প্রজনন স্বাস্থ্য বলে।

অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের প্রতিরোধ : দেশের প্রচলিত আইনে বিয়ের বয়স হওয়ার আগে ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিলে তা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। অপরিণত বয়সে গর্ভধারণরোধে আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সচেতনতামূলক নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন :

বাল্যবিবাহ বন্ধ করা : অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের প্রতিরোধ করার জন্য অপরিণত বয়সে বিয়ে অর্থাৎ বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে আইনের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক কর্র্তৃপক্ষকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সমাজের নেতৃস্থানীয় লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি : নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অপরিণত বয়সে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা যায়।

সচেতনতা বৃদ্ধি : অপরিণত বয়সে গর্ভধারণের কুফল সম্পর্কে সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, নাটক, গান প্রভৃতির মাধ্যমে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রয়োজনে সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ প্রভৃতির আয়োজন করতে হবে। অপরিণত বয়সে গর্ভধারণকে নিরুৎসাহিত করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

২. নিরাপদ ও উন্নত জীবনের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্যের সুরক্ষা জরুরি ব্যাখ্যা করো।

ভূমিকা : প্রজনন স্বাস্থ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অংশ। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপদ জন্ম ও সুস্বাস্থ্য এবং বর্তমান প্রজন্মের সার্বিক সুস্বাস্থ্য প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে।

প্রজনন স্বাস্থ্যরক্ষার উপায় : প্রজনন স্বাস্থ্যরক্ষার প্রথম কথা হলো বয়ঃসন্ধিকালে যে সব শারীরিক পরিবর্তন, সে সব বিষয়ে একটি কিশোর-কিশোরীর করণীয় কী তা ভালোভাবে জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী চলতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এ সময়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঋতুস্রাব বা বীর্যপাত ঘটলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, নিয়মিত গোসল করা দরকার। এ সময় পুষ্টিকর খাবার ও প্রচুর পানি পান করতে হবে। কোনো শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রজনন স্বাস্থ্যরক্ষার প্রয়োজনীয়তা : আমাদের দেশে প্রতি বছর সন্তান জন্মদান করতে গিয়ে অনেক মা মৃত্যুবরণ করেন। এর কারণ অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে ও সন্তান ধারণ। এর ফলে বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয় এবং স্বাস্থ্য ভেঙে যায়। এতে পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয় এবং অশান্তি নেমে আসে। মেয়েরা পরিণত বয়সে অর্থাৎ ২০ বছরের পর গর্ভধারণ করলে প্রসূতি মায়ের ও শিশুর মৃত্যুর হার কমবে।

আবার ঘন ঘন সন্তান নিলে মা ও শিশুর জীবন ঝুঁকির সম্মুখীন হয়। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য সন্তান জন্মদানের মধ্যে বিরতি দিতে হবে। এর ফলে প্রজনন স্বাস্থ্যের সুস্থতাও বজায় থাকবে এবং শিশুরা স্বাস্থ্যবান ও নিরোগ হবে। পরিবারে ও সমাজে শান্তি বিরাজ করবে। আসবে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা।

উপসংহার : উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি আগামী প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে বর্তমান প্রজন্মের সুস্থ প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর। তাই এ বিষয়ে সবার সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত