ঘাটতি জনবলে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা!

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৬ এএম

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালকে ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী বাড়েনি জনবল। আগের জনবল দিয়েই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাসপাতালটির কর্র্তৃপক্ষ। এখানে চিকিৎসকের ৫৩ শতাংশ পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পদেরও প্রায় ৭০ শতাংশ শূন্য। এত কম জনবল নিয়ে শয্যার চেয়ে আড়াইগুণ বেশি রোগীকে দেওয়া সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, তারা নামমাত্র সেবা নিয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

জানা গেছে, ১৯৮৯ সালের ১৮ জানুয়ারি নগরীর বয়রা এলাকায় ৪৩ দশমিক ২৫ একর জমির ওপর ‘খুলনা হাসপাতাল’ নামে যাত্রা শুরু হয় আজকের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। প্রথমে ৭৫টি শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ১২৫ ও ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে কার্যক্রম চলতে থাকে। ১৯৯২ সালে নাম পরিবর্তন হয়ে হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২০০৮ সালের ১ জুলাই হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ সবখানেই সাধারণ রোগীর চাপ বেশি। মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনি সব বিভাগেই ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি রোগী। শয্যা সংকুলান না হওয়ায় শত শত রোগীর ঠাঁই হচ্ছে মেঝেতে।

হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, ৫০০ শয্যার অনুমোদন মিললেও সেই অনুযায়ী জনবল পদায়ন হয়নি। খুলনা বিভাগের খুলনা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার লাখো মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে এ হাসপাতালে। ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকে হাজারেরও বেশি। অথচ এখানে শয্যা, চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অনেকটা খালি হাতে ফিরতে হয় তাদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, চিকিৎসা পাওয়ার আশায় হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার, বারান্দা, চিকিৎসকের চেম্বার, লিফটের সামনে থেকে শুরু করে শৌচাগারের দরজা পর্যন্ত সর্বত্র রোগী। শয্যা খালি না থাকায় শত শত রোগীকে বারান্দায় শয্যা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সেখানে প্রচণ্ড গরম, নেই ফ্যানও। চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনে রোগীর দীর্ঘ সারি। স্বল্প জায়গায় বাড়তি রোগীর পদচারণায় নিশ্চিত হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি। এছাড়া রয়েছে করোনার টিকা নিতে আসা হাজারো মানুষের ভিড়।

রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে এসে যারা শয্যা পান না তাদের ঠাঁই হয় মেঝে কিংবা বারান্দায়। স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে আসা তেরখাদার সাচিয়াদহ গ্রামের রহিমা সুলতানা জানান, শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে তার স্বামীর চিকিৎসা চলছে। তাদের পাশেই সাতক্ষীরা থেকে আসা হাফিজুর রহমান চিকিৎসা নিচ্ছেন একইভাবে।

কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর মনিরুল ইসলাম ভর্তি হয়েছেন কিডনির সমস্যা নিয়ে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতাল সিট দেবে কীভাবে? আমার চেয়েও খারাপ অবস্থার রোগী সিটের জন্য আবেদন করে বসে আছেন। তাদেরই দিতে পারছে না।’

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি হাসপাতাল। কিন্তু কাঠামো থাকে তো তার জনবল থাকে না, তার প্রযুক্তি থাকে না। ৫০০ বেডে উন্নীত হবে, অথচ ২৫০ বেডের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চলতে হবে! শুধু খাবার থাকবে ৫০০ বেডের।’

জনবল ও শয্যা সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘হাসপাতালের শয্যা ৫০০টি, রোগী ভর্তি থাকে ১১০০-১২০০। ৫৩ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য। অন্যান্য স্টাফের পদ শূন্য রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি। এত কম জনবল নিয়ে শয্যার আড়াইগুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত