কার্গোর ধাক্কায় বেঁকে যাওয়া সেতুটি যেন মরণফাঁদ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪২ পিএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে কার্গোর ধাক্কায় বেঁকে যাওয়া লেবুখালী বাজারসংলগ্ন ভাড়ানী খালের ওপর লোহার সেতুটি এখন এলাকাবাসীর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের নিত্য পারাপারের মাধ্যম ঝূঁকিপূর্ণ এ সেতুতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ সেতুটিতে না ওঠার নির্দেশনাযুক্ত সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখলেও তা কেউ আমলে নিচ্ছে না। দুই কিলোমিটার দূরত্বের বিকল্প পথ ঘুরে যাওয়ার বিড়ম্বনা এড়াতে সবাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাত হয়ে পড়া সেতুটি দিয়ে পারাপার হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গোড়ার দিকে একটি মালবাহী কার্গোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে ভাড়ানী খালের ওপর পুরনো আয়রন ব্রিজটির মাঝামাঝি দুটি খুঁটি ও অ্যাঙ্গেল দুমড়ে-মুচড়ে একদিকে কাত হয়ে ঝুলে পড়ে। তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় কার্গোটি আটকে সেতু মেরামতের জন্য ৭০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়। পরে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ওই টাকায় মেরামতের নামে কয়েকটি নাট-বল্টু লাগিয়ে জোড়াতালি দেওয়ার কয়েক দিনেই ফের নড়বড়ে হয়ে যায় সেতুটি। বর্তমানে কেউ পার হতে গেলে সেতুটি দুলতে থাকে। সেতুটির পূর্ব পাড়ে লেবুখালী হাবিবুল্লাহ সরকারি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল ও একটি নুরানী মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী এবং অপর পাড়ের ঐতিহ্যবাহী বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে। তাদের প্রতিনিয়ত যাতায়াতের সহজ মাধ্যম এ সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী সেরাজ উদ্দিন শরীফ অভিযোগ করেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুটির এমন দুরবস্থা হলেও তা কেউ দেখছে না। বারবার আবেদন-নিবেদন করলেও উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের টনক নড়ছে না। তারা দায় এড়াতে সেতুর গোড়ার দিকে সাইনবোর্ড দিয়ে লোকজন পারাপারে নিষেধ করেছে। কিন্তু সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।’

স্থানীয় জাকির হোসেন মোল্লা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘এ সেতুটি এখন কয়েকজন লোকের আয়ের খাত হয়েছে। কার্গোর ধাক্কায় ক্ষতিপূরণ আদায় এবং মেরামতের প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ এনে তারা পকেট ভরছে, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’

লেবুখালীর স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম ডাক্তার বলেন, ‘এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে ইতিমধ্যে একটি নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে তা বলতে পারছি না।’

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা সেতুটির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় স্কিম পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আবদুল্লাহ সাদীদ বলেন, ‘সেতুটি অতি পুরনো হওয়ায় ইতিপূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উভয় তীরে সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়েছে এবং জনসাধারণ চলাচলে নিষেধ করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত