‘ফেভারিট’ হিসেবেই বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব শুরু করছে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫১ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে রবিবার থেকে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব বা কোয়াফিয়াইং রাউন্ড। গ্রুপ ‘বি’ তে থাকা বাংলাদেশ ‘সুপার টুয়েলভ’ পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে ফেভারিট হিসেবেই নিজেদের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে।

আসরের উদ্বোধনী দিনেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন।

প্রথম পর্বে বাংলাদেশের গ্রুপে স্কটল্যান্ড ছাড়াও রয়েছে ওমান এবং পাপুয়া নিউগিনি। গ্রুপের চার দলের শক্তিসামর্থ্য এবং সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় সেরা হয়েই সুপার টুয়েলভ পর্বে খেলার প্রত্যাশা বাংলাদেশের।

এ বছর ৯টি টি-টোয়েন্টি জিতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে গেছে। এক পঞ্জিকা বর্ষে টাইগারদের চেয়ে বেশি জয় আছে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার (১২)।

যদিও মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের সিরিজের সবগুলো টি-টোয়েন্টিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে এরপর ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে (২-১), অস্ট্রেলিয়া (৪-১) এবং নিউজিল্যান্ডকে (৩-২) সিরিজ হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন দল।

‘বি’ গ্রুপে সেরা হয়ে কোয়ালিফাই করলে সুপার টুয়েলভ পর্বে বাংলাদেশ খেলবে ভারত, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং বাছাই পর্বে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের সঙ্গে।

বাছাই পর্বে ‘এ’ গ্রুপে থাকা দলগুলো হচ্ছে- শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং নামিবিয়া।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চ অবশ্য কখনোই বাংলাদেশের জন্য সুখের ছিল না। যদিও ২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারায় টাইগাররা এবং সুপার এইটে খেলে। ২০০৯, ২০১০ এবং ২০১২ সালের আসরে কোনো জয়ই তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

২০১৪ সালে ঘরের মাঠের আসরে জয়ে ফিরে বাংলাদেশ। তবে সেই জয় ‍গুলো ছিল প্রথম পর্ব বা বাছাই পর্বে। গ্রুপ সেরা হয়ে সুপার টেন পর্বে পা দিলেও যেখানে সব ম্যাচেই হার টাইগারদের।

২০১৬ সালের আসরেও একই গল্প। যে আসরে ভারতের বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হতাশায় ডুবেছিল বাংলাদেশ।

তবে এবারের আসরের আগে ঠিক সময়েই ছন্দে ফিরেছে বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ছয় নম্বরে। অস্ট্রেলিয়া, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দল রয়েছে তাদের নিচে। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাফল্যই র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরে নিয়ে গেছে বাংলাদেশকে।

যদিও হোম কন্ডিশনে স্পিনিং ট্র্যাক উইকেটে পাওয়া সাফল্য বিশ্বকাপে কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে এটা সত্য যে বাংলাদেশ জয়ের অভ্যাস নিয়েই বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে গেছে।

অভিজ্ঞ এবং তারুণ্যের মিশেলে গড়া বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য আছে বেশ ভালো কিছু করার। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমানের মতো তারকা রয়েছেন। যারা যে কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পরীক্ষিত তারকা।

অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবালকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। যিনি টুর্নামেন্টের আগে নিজেকে সরিয়ে নেন। তবে তার অনুপস্থিতিতে লিটন দাস, নাঈম শেখ, সৌম্য সরকারদের সামনে সুযোগ নিজেদের মেলে ধরার।

লিটন, নাঈম, সৌম্য, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকদের নিয়ে গড়া হবে টাইগার ব্যাটিং লাইন। বোলিং ইউনিটে নেতৃত্ব দেবেন মোস্তাফিজ। যেখানে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আছেন তরুণ শরিফুল ইসলাম।

স্পিন বিভাগে সাকিবের সঙ্গী হতে রয়েছেন তরুণ নাসুম আহমেদ, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসানরা।

বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে দুটি অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই অবশ্য হার টাইগারদের।

বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড এ নিয়ে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। দলটির নেতৃত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ কাইল কোয়েটজার। জর্জ মুন্সি খেলতে এসেছেন দারুণ ছন্দ নিয়ে।

কোয়েটজার, ক্যালাম ম্যাকলিয়ড, রিচি বেরিংটনরা দলের ব্যাটিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। বোলিং বিভাগে ব্র্যাড হুইল, জোশ ডেভি- দুজনই কাউন্টি ক্রিকেটে খেলে থাকেন। পেস আক্রমণে দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন শাফায়ান শরীফ।

অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে নামিবিয়াকে হারিয়ে আসায় বাংলাদেশের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে স্কটল্যান্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত