ওমানে বিশ্বকাপ উন্মাদনা শুধু বাংলাদেশিদের

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫৮ পিএম

২০১১-তে ওয়ানডে আর ২০১৪-তে টি-টোয়েন্টি। আইসিসির বিশ্বকাপ বলতে এখন পর্যন্ত এ দুই আসরের সাক্ষী বাংলাদেশ। ২০১৬-তে যুব বিশ্বকাপও হয়েছে। সবকটি আসরেই ছিল সাজ সাজ রব। রাস্তায় নামলেই বোঝা যেত হ্যাঁ শহরে বিশ্বকাপ জাতীয় কিছু হচ্ছে। ২০১১ সালে প্রতিটা স্টেডিয়ামেই তো বিয়েবাড়ির সাজে সেজেছিল। রাস্তাতেও ছিল বৈদ্যুতিক আলোর রোশনাই। দিন গড়িয়ে রাতে রাস্তায় উৎসুক জনতার ভিড় নামত। যেন সবাই বিশ্বকাপের সাক্ষী হয়ে থাকতে চায়। কিন্তু ওমানে একদম ফাঁকা।

বিশ্বকাপ এই প্রথম আয়োজন করছে ওমান। কিন্তু প্রথমের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই দেশটিতে। বিমানবন্দর থেকে রুইয়ি নামের জায়গার হোটেল পর্যন্ত একটি বিলবোর্ডও নেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হচ্ছে। অথচ আসরটি যদি বাংলাদেশে হতো তাহলে প্রতি বড় রাস্তাতেই ব্যানার-ফেস্টুন নিশ্চিত বসে যেত। মাসকাটের বিশাল ফাঁকা রাস্তায় কোথাও টি-টোয়েন্টি লোগো সংবলিত একটি ব্যানারও নেই। এই শূন্যতায় যেন বিশ্বকাপ নিয়ে ওমানের উৎসাহের শূন্যতাই জানান দিচ্ছে।

ওমান ঘুমিয়ে থাকলেও বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এখানে জাগ্রত বাংলাদেশ। এর উদাহরণ প্রস্তুতি ম্যাচে তো দেখাই গেল। ভারত ও ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে ৩ হাজার ৫২৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দেশটিতে আসতে হয়। অথচ দূর পরবাসেও ওমানের বিশ্বকাপ রূপ নিয়েছে বাংলাদেশের। দেশটিতে প্রথম পর্বে যারা খেলছে শ্রীলঙ্কা, স্বাগতিক ওমান, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড বা পাপুয়া নিউগিনি; দেশগুলো থেকে খুব একটা মানুষ ওমানে কাজের সন্ধানে আসেন না। সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিরাই এখানে। দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৫৩ লাখ। সরকারি শুমারি অনুযায়ী এদের ৬ লাখই বাংলাদেশি । ওমান ‘এ’ দলের সঙ্গে ৮ অক্টোবরের প্রস্তুতি ম্যাচে এখানকার বড় শহরগুলো থেকে সমর্থকরা ভিড় করেছিল আল আমেরাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের খেলা দেখবেন বলে। তারাই মূল ম্যাচেও আসতে চান। কুমিল্লার শাহিন আলম যেমন। বিমানে পাশের সিটে বসা কফিশপের কর্মী থাকেন মাসকাট বিমান বন্দর থেকে প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার দূরের আল হামরা শহরে। ব্যক্তিগত গাড়িতেই সময় লাগে তিন ঘণ্টার মতো। অথচ পরিচয় পেয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখার টিকিট চেয়ে বসলেন। কুমিল্লা থেকে ঢাকা গিয়ে ম্যাচ দেখার সুযোগ হয় না তার। পরবাসে যখন এমন উপলক্ষ পেলেন– আসতে চান তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়েই। তবে টিকিট মেলা যে খুব কঠিন!

ওমানে বিশ্বকাপ উন্মাদনা ভেন্যু আল আমেরাত স্টেডিয়ামে কিছু আছে। চারপাশে রুক্ষ ধূসর আল আমেরাত পর্বতমালার মধ্যে সবুজ বলতে ওইটুকুই। সবুজ গালিচার ওই মাঠটিতে ঢোকার মুখে বড় তোরণের মতো করে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হয়েছে। এই সবুজ অংশজুড়েই আছে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। স্টেডিয়াম ঘিরে কিছু স্থাপনা, সবটাই স্টেডিয়ামের অংশ। একদিকে সাদা দালানের ড্রেসিংরুম, মিডিয়া কক্ষ ও অন্যান্য অফিশিয়ালদের বসার স্থানÑ তাতে লেখা ওমান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। আরেক পাশে অস্থায়ী গ্যালারি। এছাড়া মাঠের চার পাশের আরও কিছু অংশ মিলিয়ে মোট ৩ হাজারের মতো দর্শক বসে খেলা দেখতে পারবেন এই মাঠে। অথচ এখানকার ৬ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি মাহমুদউল্লাহ-সাকিব-মুশফিকদের খেলা দেখতে চান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত