দেশে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম গত রবিবার ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করে। যে কয়েকটি কারণে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার এই উদ্যোগ তার মধ্যে অন্যতম হলো পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের ভোগান্তি ও ব্যয় লাঘব। কিন্তু সেই দুটোর কোনোটিই না কমে উল্টো বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এছাড়া গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তার স্বাতন্ত্র্য হারাচ্ছে বলে মনে করেন কোনো কোনো শিক্ষক।
গুচ্ছ পদ্ধতিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা নিয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় ১২৩টি হলে ৬৯১৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষায় আসন ব্যবস্থা করা হয়েছিল ৭৬৮৮ জনের। যার মধ্যে অনুপস্থিত ছিলেন ৭৭৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ১০ শতাংশ।
পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ না উঠলেও আসন বিন্যাসে গাদাগাদির অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা। পছন্দের কেন্দ্রে সিট না পড়ায় দুর্ভোগ ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা এসব পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক দূরত্ব ছিল না। প্রতিটি মিনি বেঞ্চে তিন জন আবার সিংগেল দুটি টেবিল এক করে চারজনকে গাদাগাদি করে পরীক্ষায় বসার দৃশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় প্রত্যেক কক্ষে।
পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষা কমিটির চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে একটি সিটপ্ল্যান পাঠানো হয়েছিল। তবে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে যেটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেইভাবেই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করেছে।
পছন্দের কেন্দ্রে সিট না পড়ায় ভোগান্তি ও ব্যয় বেড়েছে বলে দেশ রূপান্তরের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান রাজশাহী থেকে আসা এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অভিভাবক ফিরোজ আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কেন্দ্র নির্বাচন করেছিল একটিতে, আর পরীক্ষা দিতে আসতে হলো ময়মনসিংহে। এতে আমাদের যাতায়াতে ভোগান্তি ও ব্যয় কমার বদলে বেড়েছে।’
গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই পদ্ধতির পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় তার পছন্দ ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। কেউ জানে না কারা প্রশ্ন করেছে। অর্থনৈতিক ব্যয় থেকে ভালোভাবে কাজ বাস্তবায়ন করতে যে অর্থের প্রয়োজন সেটিও পাচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়। এক কথায় স্বাতন্ত্র্য হারাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। এভাবে পরীক্ষা চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় তার মান হারাবে। কেবল কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিপত্য থাকবে সেখানে। গাদাগাদি করে পরীক্ষা নেওয়া হলো সেইভাবে আমরা মিডটার্ম বা ক্লাসও নিই না। নিয়ম রক্ষার পরীক্ষা হয়েছে এটি।’
