মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জামশা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ।
আদালতে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন আইনে দ্বিতীয় স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে জামশার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিঠু ওই নারীর সিংগাইর থানায় ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি মামলা এবং পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের অজুহাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে ছলে-ছুতোয় তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর ২০১৯ সালের ১ জুলাই তার পরিষদের একটি কক্ষে নিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। এতে ওই নারী রাজি না হলে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে থাকেন।
একপর্যায়ে স্ত্রীর গর্ভে সন্তান আসলে মিঠু জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতে থাকেন।
একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে ভিকটিম এলাকার বিভিন্ন লোকজন ও থানায় ধরনা দিয়ে প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে গত ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মো. মিজানুর রহমান মিঠুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেন।
ইতিপূর্বে এ বিষয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক "দেশ রূপান্তর" পত্রিকায় "ধর্ষণের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা" শিরোনাম একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান মিঠু এবার আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলায় ওয়ারেন্টর আসামি মো. মিজানুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
