বিদ্যালয়গামী সব শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে তার বই। তবে দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রিয় সেই বই হারিয়ে কষ্টে আছে জেলে পল্লির নিরাপদ চন্দ্রের মেয়ে নিলি।
রবিবার রাতে নির্মমতার আগুনে পুড়েছে তাদের বাড়িঘরসহ নিলি রানীর বই-খাতা-কলম ও ব্যাগ।
নিলি রানী উপজেলার দারিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, আমার নতুন বইগুলো পুড়ে গেছে। আমি এখন কী নিয়ে স্কুলে যাব? আমার বাবার কিনে দেওয়া নতুন ব্যাগটাও পুড়ে গেছে। বইগুলো আমার ভালো বন্ধু ছিল।
একই কষ্ট লক্ষ্মী রানীরও।
প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী লক্ষ্মী রানীর বাবা রনজিত বাবু বলেন, আমার মেয়েও সংসারের কিছু না বুঝলেও বইগুলোর জন্য অনেক কান্নাকাটি করছে। আমার ঘরের কোনো কিছু নাই। আমি এখন বই-খাতা-কলম-ব্যাগ কিনে দিতে পারব না।
এ ছাড়া এ পল্লিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যয়নরত প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীর বই-খাতা পুড়ে গেছে।
সহায়-সম্বলহীন অলকা রানীর বাবা পবিত্র বলেন, আমার মেয়ের বই-খাতা সব পুড়ে গেছে, মেয়ে বই-খাতার জন্য কান্নাকাটি করে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মমিন বলেন, আমরা তাদের তালিকা দিতে বলেছি এবং প্রধান শিক্ষকদের এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তাদের বই-খাতা-কলম ও পোশাক দেওয়া হবে।
জেলে পল্লির অবিভাবকরা বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়, তা সবার কাছেই আমাদের অনুরোধ।
