ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পেটালেন ২ আনসার সদস্য

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৩৭ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে। 

মারধরে আহত ওই ছাত্রের নাম ঐশ্বর্য সরকার। দুই আনসার সদস্য বন্দুক ও লাঠি দিয়ে তাকে প্রহার করে বলে অভিযোগ।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহিবিভাগে চিকিৎসা নিতে এলে দুই আনসার সদস্যের সঙ্গে সিরিয়াল নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। ঘটনার একপর্যায়ে তাকে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে আনসার শরিফ এবং মাসুদ। যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

শিক্ষার্থী আহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির দুই সদস্য আসাদুজ্জামান নিউটন, আসলাম মাহমুদ এবং ফোকলোর বিভাগের শিক্ষক ড. মেহেদি উল্লাহ। 

এরপর হামলার বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেক) পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. ফজলুল কবীর এবং তিন সদস্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল ।  

আলোচনা শেষে ঘটনায় জড়িত দুই আনসার সদস্যকে হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করা হয় পাশাপাশি আনসার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

শিক্ষার্থীকে প্রহারের ঘটনা দুই আনসার সদস্য দোষ স্বীকার করেছেন বলেছে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. মো. ওয়ায়েজউদ্দীন ফরাজী। 

ওয়ায়েজউদ্দীন ফরাজী বলেন, আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং আনসার সদস্যের বক্তব্য পেয়েছি। সেই প্রেক্ষিতে দুই আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করে এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করবে । 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আসাদুজ্জামান নিউটন ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীদের বলেন, চিকিৎসা নিতে আসা কাউকে পিটিয়ে অসুস্থ করে দিতে পারে না হাসপাতাল। তবে হাসপাতালের পরিচালক যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়েছেন এবং আনসারদের স্বীকারোক্তি পেয়ে তাদের  হাসপাতাল থেকে প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীর সব চিকিৎসা ব্যয় বহনের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র প্রদান করলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। জঘন্য এ কাজের জন্যে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি দেবে মমেক। 

আহত শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকার বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে যেভাবে আমায় পিটিয়েছে তা সামনে থেকে কেউ না দেখলে বুঝত না। আমার শার্ট, ব্যাগ ছিঁড়ে ফেলেছে। চশমা ভেঙে দিয়েছে। সারা শরীরে লাঠি আর বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি জড়িতদের বিচার চাই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত