ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দেশের প্রাচীনতম দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশনটিকে আবারও জনবল সংকটের কারণ দেখিয়ে ক্লোজ ডাউন ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে করে এই রুটে চলাচলরত সকল যাত্রীকে ট্রেনে ওঠানামা করতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
বুধবার হিলি রেলস্টেশনটি ক্লোজ ডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে করে এই পথ দিয়ে চলাচলরত সকল ট্রেন থ্রু পাস হয়ে যাবে। যে কটি ট্রেনের স্টপেজ আছে সে ট্রেনগুলিও প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়িয়ে চালকের ইচ্ছায় ২নং লাইনে দাঁড়াচ্ছে, সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে স্টেশন ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
জানা যায়, হিলির পার্শ্ববর্তী বিরামপুর ও পাঁচবিবি রেলস্টেশন থেকে এটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হওয়ায় যে কোনো সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অবিলম্বে হিলি রেলস্টেশনটি চালুসহ স্টেশনটির আধুনিকায়ন করা ও সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন হিলিবাসী। তারা বলেন, হিলি থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও রেলস্টেশনটির কোন উন্নয়ন করেনি।
হিলি রেলস্টেশনে আসা জুয়েল হোসেন বলেন, আমার মা রাজশাহীতে তার মেয়ের বাড়িতে যাবে, সে জন্য আমি সকালের রাজশাহীগামী বরেন্দ্র ট্রেনে তাকে উঠিয়ে দিতে স্টেশনে এসেছি। স্টেশনে এসে শুনি স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সব ট্রেন ২নং লাইনে দাঁড়াবে। আমার বয়স্ক মা, সে কোনভাবেই ২নং লাইনে সেই ট্রেনে উঠতে পারবে না। তারপরেও অনেক কষ্ট করে কোনরকম করে দুজন মিলে ধরে ট্রেনে তুলে দিয়েছি। আমরা টাকা দিয়ে টিকিট কিনেও এভাবে কষ্ট করে ট্রেনে চড়তে হচ্ছে, এই স্টেশন রেখে লাভ কি। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।
হিলি স্টেশনে টিকিট কাটতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ছেলে খুলনায় পড়ালেখা করে সেখানে যাব, ট্রেনের টিকিট কাটতে এসে শুনি স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে সরকার রেল যোগাযোগ উন্নয়নের কথা বলছে, অপরদিকে হিলি রেলস্টেশন বন্ধ করে দিয়ে কিসের উন্নয়ন করছে সেটি আমাদের মাথায় আসছে না। সরকার প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে হিলি থেকে, রেলপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনের কারণে স্টেশনের আয় বেড়েছে কয়েক গুন, এরপরও স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার কারণ কি?
হিলি রেলস্টেশনে দায়িত্বরত চুক্তিভিত্তিক মাস্টার তপন কুমার বলেন, হিলিতে কোন মাস্টার নেই, পয়েন্টসম্যান নেই, এখানকার যে পয়েন্টসম্যান ছিল তাদেরকে অন্যত্র নিয়ে গেছে। এ কারণে বুধবার থেকে ক্লোজডাউন করে হিলি রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাকে যেভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল, সেটি থেকে বিদায় করে দিয়েছে। এখন থেকে ট্রেনের টিকিট দেবে বুকিং গার্ড, আর সব ট্রেনগুলি প্ল্যাটফর্মে না দাঁড়িয়ে ২নং লাইন দিয়ে চলাচল করবে, সেখানেই যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে হবে।
হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, রেলপথ দিয়ে ভারত থেকে পণ্য আমদানির মাধ্যমে হিলি রেলওয়ে স্টেশন থেকে সরকার কোটি কোটি রাজস্ব আহরণ করছে। একই সঙ্গে রেলপথে চলাচলরত যাত্রীদের নিকট টিকিট বিক্রি করেও হিলি রেলস্টেশনের আয় বেড়েছে। কিন্তু এর পরেও হিলি রেলস্টেশনটি বন্ধ করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক বরাবর পত্র দেওয়া হয়েছে। এর অনুলিপি মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট দেওয়া হয়েছে। শুধু এটি চালু করা নয়, এটির আধুনিকায়ন করণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
