নীলফামারী সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আগামী ১১ নভেম্বর। ওই ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতেই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর’ ছড়াছড়ি। ইউনিয়নগুলোতে বিদ্রোহীদের ২২ জনের বিরুদ্ধে শপথ ও মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে।
তফসিল অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। এদিন সদরের ১১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন জমা পড়ে ৬৮ জনের। মনোনয়ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পলাশবাড়ী এবং সংগলশী ইউপি বাদে ৯টিতেই রয়েছেন আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী।
দলীয় সূত্র জানায়, চওড়াবড়গাছা ইউনিয়নে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে প্রার্থিতা চেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বিটু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সাধারণ সদস্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টু ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি ইবনে মিজান সম্রাট।
গোড়গ্রাম ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মাসুদ পারভেজ। রামনগর ইউনিয়নে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান এবারের নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী। কচুকাটা ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য বেলাল উদ্দীন কবিরাজ।
পঞ্চপুকুর ইউপিতে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হবিবর রহমান সরকার, অন্য উপদেষ্টা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াহেদুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সোনা চৌধুরী ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নাজমুল হক।
সোনারায় ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন কৃষক লীগের আহ্বায়ক অশ্বিনী কুমার বিশ্বাস, ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হান্নান শাহ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য পরেশ চন্দ্র অধিকারী।
চড়াইখোলা ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন কৃষক লীগের সহসভাপতি আসাদুল হক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মুরাদ হোসেন।
চাপড়াসরমজানী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য শরিফুল ইসলাম প্রামাণিক, অপর সদস্য আসাদুজ্জামান চৌধুরী ও সাত নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৈমুর রহমান।
লক্ষ্মীচাপ ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শ্যামচরণ রায়।
এ প্রসঙ্গে নীলফামারী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান বলেন, নীলফামারী সদর আসনের সাংসদ সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ভাইয়ের দিকনির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়নের বর্ধিত সভায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়, মনোনয়নবঞ্চিত হলে তারা কেউ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন কি না। সবাই একবাক্যে ‘না’ বলেছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তেই তারা একে একে পৃথকভাবে বর্ধিত সভায় মুচলেকা এবং শপথগ্রহণ করেন। কিন্তু মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ৯টি ইউনিয়নের ২২ জন মুচলেকা ও শপথভঙ্গ করে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আফতাব উজ্জামান জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ অক্টোবর।
