রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা মুলতবি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষোভ, অবস্থান ধর্মঘট ও আমরণ অনশন শুরু করেছেন।
শুক্রবার সিন্ডিকেটের সভা মুলতবি রাখা হয়। শিক্ষার্থীরা শুক্রবারই আন্দোলন শুরু করে। শনিবার ক্যাম্পাস ফের উত্তাল হয়ে ওঠে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র শামীম হোসেন ও আবু জাফর বলেন, শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাব। বর্জন করা পরীক্ষায়ও অংশ নেব। অথচ রবি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শুক্রবারের সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করে আমাদের অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে আবারও আন্দোলন শুরু করেছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ আন্দোলন চলবে।
এ বিষয়ে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন জানান, এ ঘটনার সাক্ষ্য দিতে তদন্ত কমিটি তাকে ডাকেননি। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিও তাকে দেয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, এটা তার বিরুদ্ধে একটা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। সময় এলে মিডিয়ার সামনে হাজির হয়ে সব বলব।
তবে, ফারহানার অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কমিটির প্রধান ও রবীন্দ্র অধ্যয়নের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, নিজেকে বাঁচাতে তিনি নানাভাবে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মিডিয়াকে বিভ্রান্ত করছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার সাক্ষ্য দিতে তাকে একাধিক বার চিঠি দিয়ে ডাকা হয়েছে। তিনি প্রতিটি চিঠি রিসিভ করে তার উত্তরও দিয়েছেন। এসবের যথেষ্ট প্রমাণাদিও আমাদের হাতে আছে।
এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ও আইনগত বিষয় আরও স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা পূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সিন্ডিকেটের সভা মুলতবি করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো লুকোচুরি নেই।
