২০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি কেরানীগঞ্জের রাস্তাটি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:২৫ পিএম

গত ২০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি একটি কাঁচা রাস্তায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে হাঁটু সমান কাদা পনি হয়ে যায়। এর উপর দিয়েই চলাচল করতে হয় গ্রামের মানুষদের। এতে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই এলাকায় বসবাসরত প্রায় তিন শতাধিক পরিবার।

এ দশা ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার বাস্তা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চরকুন্দলিয়া গ্রামের বটতলা থেকে সরকারি ডিসি প্রজেক্ট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার রাস্তার। রাস্তাটি গ্রামটির প্রধান সড়কও।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, গত ২০ বছরেও কেরানীগঞ্জের ওপর অনেক রাস্তাঘাট হলেও তাদের গ্রামের রাস্তাটি হয়নি। প্রতিবার নির্বাচনের আগে স্থানীয় এমপি, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা রাস্তাটি পাকা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে বাস্তবায়ন হয়নি আজও।

তারা জানান, ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক, কুচিয়ামোরা, আব্দুল্লাহপুর, মধ্যেরচর, কাইজ্জারচর, চর সোনাকান্দাসহ আশপাশের অনেক স্থানেই এই রাস্তা ধরে যেতে হয় গ্রামবাসীর।

এ রাস্তা বেহাল হওয়ার কারণে প্রতিদিনই তিন শতাধিক পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

image

একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় ভরে যায় রাস্তাটি। সিএনজি, অটোরিকশা মোটরসাইকেল, ভ্যান চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় তখন। জুতা খুলে পায়ে হাটতে গিয়েও অনেকে পিছলে পড়ে কাপড় নষ্ট করে আবার বাড়ি ফিরে যেতে হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আড়াই কিলোমিটার ওই রাস্তায় কোথাও কাদামাটি কোথাও পানিতে ডোবা। মাঝে মধ্যে দু-একটি রিকশাসিএনজি যাতায়াতের চেষ্টা করছে তবে কাদার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তায় হেঁটে চলাচলও অনেক কষ্টকর।

স্থানীয় বাসিন্দা টুটুল জাহাঙ্গীর বলেন, আশপাশের সকল গ্রামের রাস্তা পাকা হলেও আমাদের গ্রামের রাস্তাটি গত ২০ বছরে কিছুই হয়নি। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতারা প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। রাস্তাটি আমাদের গ্রামের প্রধান রাস্তা।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কত মেম্বার চেয়ারম্যান এল গেল কিন্তু কেউ রাস্তাটি নিয়ে কিছু করলো না।

স্কুলছাত্র মো. তৌহিদ বলেন, আমাদের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে কাপড় চোপর নষ্ট করে আমাদের স্কুলে পৌঁছাতে হয়।

গ্রামটির অপর একজন বাসিন্দা শাহজালাল জানান, রাস্তাটি খারাপ হওয়ার কারণে কোনো গাড়ি এ রাস্তা দিয়ে আসতে চায় না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের। একজন রোগীকে দ্রুত সময়ে হাসপাতালে নিতে হলে এ রাস্তার কারণে তা নেয়া সম্ভব না। আর রাস্তার বাজে অবস্থার কারণে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও স্কুলে যেতে চায় না। দ্রুত এ রাস্তার সংস্করণের দাবি জানাই।

বাস্তা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আশকর আলী বলেন, দেড় বছর আগে রাস্তার কাজটা শুরু করেছিলাম। পরবর্তীতে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার আমাকে জানায় এই রাস্তার কার্পেটিং এর জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে কার্পেটিং হয়ে যাবে। পরে ওনার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কাজ বন্ধ করে দেই। কিছুদিন আগে রাস্তাটির টেন্ডার করা হয়েছে । টেন্ডার ইতিমধ্যে চলে গেছে। টেন্ডারটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ইতিমধ্যেই রাস্তাটার টেন্ডার হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই রাস্তাটির কাজ শুরু হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত