শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: মরদেহ গুম করতে ছেলেকে বাবার সহায়তা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৪৯ পিএম

নাটোরের লালপুরে এক শিশুকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা করে এক কিশোর (১৫)। হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য বস্তায় ভরে টয়লেটের ট্যাংকে রাখে সে। একদিন পর মরদেহটি ওই কিশোর তার বাবার সহায়তায় আবার ট্যাংক থেকে তুলে শিশুটির বাড়ির অদূরে একটি ধানখেতে ফেলে রাখে।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব জানান নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, লালপুর উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের আব্দুলপুর মধ্যপাড়ায় বনভোজনের কথা বলে সাত বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত কিশোর। ধর্ষণের সময় ব্যথায় শিশুটি কান্না শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ধর্ষক কিশোর। তারপর হাঁসুয়া দিয়ে ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সে। এরপর মৃতদেহ বস্তায় ভরে পাশের টয়লেটের ট্যাংকে ভরে রাখে। পুলিশ ওই শিশুর খোঁজ শুরু করলে কিশোরের বাবা জিজ্ঞাসাবাদে করে নিশ্চিত হন তার ছেলেই হত্যা করেছে। নিজের ছেলেকে বাঁচাতে পরে বাবা-ছেলে মিলে টয়লেটের ট্যাংক থেকে লাশের বস্তা তুলে ৫০০ মিটার দূরে জিয়া মেম্বারের আম বাগানের পাশের ধানখেতে ফেলে রেখে আসে।

লিটন কুমার সাহা জানান, শনিবার রাতে ওই কিশোর ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে লালপুর থানা পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত হাঁসুয়া উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনি বলেন, নিখোঁজের চতুর্থ দিনে শিশুটির বাবা জানতে পারেন তার বাড়ির ৭০০ মিটার দূরে জমিতে বস্তাবন্দী অবস্থায় একটি মৃতদেহ পড়ে আছে। এ সময় তারা সেখানে গিয়ে শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ শনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক জোবায়ের, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফজলুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ জালাল উদ্দীনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত