রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় দ্বিতীয় দফা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ফারহানার স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনশন প্রত্যাহার করলেও অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার এ প্রেক্ষিতে ইউজিসির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা আসে।
এর আগে রবিবার রাত সোয়া ২টার দিকে তাদের অবরোধে আটকা পড়া অবরুদ্ধ রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুলিশের সহযোগিতায় মুক্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষর কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা।
তিনি বলেন, সড়ক অবরোধ করে কোনো কর্মসূচি, ভাংচুর, উচ্চ শব্দে মাইক বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। শিক্ষার্থীরা এ অনুরোধ মেনে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য কথা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তারা শিক্ষিকা ফারহানার স্থায়ী বরখাস্তের বিষয় দায়ীত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের সঙ্গে বসতে চাইলে আমি বিষয়টি তাকে জানিয়েছি। তিনি অচিরেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন বলে জনিয়েছেন।
এ ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. দিল আফরোজ বেগমকে প্রধান করে ইউজিসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা করা হয়েছে।
এ কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জামিনুর রহমান ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী।
ইউজিসি সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে রবির একাডেমিক ভবনে এ তদন্ত কাজ অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, রবি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের যথাস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে মোবাইল ফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মো. জামিনুর রহমান।
তিনি বলেন, ইউজিসি বিষয়টি অবগত হয়েছে। ফলে এ ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র আবু জাফর বলেন, রবি প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করলেই আমরা ক্লাসে ফিরে যাব ও পরীক্ষায় অংশ নেব। কিন্ত রবি কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে আমাদের শিক্ষাজীবন অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। আমরা এর দ্রুত সমাধান চাই।
এ বিষয়ে জানতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়ীত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ ও রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর ফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ওই বিভাগের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন। এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও আমরণ অনশন শুরু করেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১৬তম সভায় শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় ও ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানানো হয়। পরে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন ও আন্দোলন স্থগিত করেন।
কিন্তু গত শুক্রবারের সিন্ডিকেট সভায় এ-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা মূলতবি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা আবার আন্দোলন শুরু করেছেন।
টানা তৃতীয় দিনে তারা একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
