দেশের দুই বিমানবন্দর থেকে গত তিন বছরে দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে অবৈধ পথে দেশে নিয়ে আসা ৪২১ কেজি সোনা জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
সোমবার দুপুরে কাকরাইলের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থার মহাপরিচালক আবদুর রউফ।
রাজধানীর শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এই সোনা উদ্ধার করা হয়। দু-একটি ঘটনায় বহনকারীদের আটক করা হয়। মামলা হয়, তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল অপরাধীরা। সোনা চোরাচালানের পাঁচটি ঘটনার মধ্যে ধরা পড়ে মাত্র একটি।
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, সোনা চোরাকারবারিরা দুবাই ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ৯৮ শতাংশ যাত্রীকে সোনা পাচারে ব্যবহার করছে। একজন যাত্রী লাগেজ–সুবিধার আওতায় দুটি করে সোনার বার আনতে পারেন। এই সুযোগ নিচ্ছে চোরাকারবারিরা। প্রতিটি বারে শুল্ক ২০ হাজার ও বহনকারীকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে বৈধভাবে সোনা আনা হচ্ছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন ও যেসব সংস্থার বিমানে সোনা আসছে, তাদের লোকজন পাচারকারীদের সঙ্গে জড়িত। তাদের সহযোগিতা ছাড়া বিমান ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে সোনা চোরচালান সম্ভব নয়।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০২১-২০২২) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৯৬৪ কেজি সোনা আটক করা করেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। এর আগে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৭৪ দশমিক ৪৯ কেজি এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৮০ দশমিক ৩৫ কেজি সোনা জব্দ করা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে সোনার চাহিদা বছরে ১৬ থেকে ২৬ টন। কিন্তু এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সোনা অবৈধ পথে দেশে আসছে। পাঁচটি সোনার চালান এলে ধরা পড়ে মাত্র একটি। অবৈধ পথে দেশে নিয়ে আসা এসব সোনার একটি বড় অংশ চলে যায় পাশের দেশে। যে কারণে দেশে সোনা চোরাচালান কমছে না। সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রবিবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোনার ১০৪টি বার জব্দ করেছে বিমানবন্দরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এগুলোর ওজন প্রায় ১২ কেজি। দুবাইফেরত ফ্লাইট বিজি-৪১৪৮–এর কার্গো হোল থেকে সোনার বারগুলো জব্দ করা হয়। কার্গো হোল্ডের মাঝখানের প্রবেশমুখের বাঁ দিকে ছাই রঙের কাপড়ের বেল্টের ভেতরে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় তিনটি প্যাকেটে ছিল সোনার বারগুলো।
আবদুর রউফ বলেন, নতুন কৌশল হিসেবে ‘আনসিডিউল’ ফ্লাইটে সোনা আনা হচ্ছে, যাতে ধরা না পড়ে। আবার বড় চালানের ক্ষেত্রে ১০ জন মিলে বিনিয়োগ করে থাকেন। যাতে ধরা পড়লেও সবাই মিলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে।
