চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের ফাটলের বিষয়টি গুজব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. মাহফুজুর রহমান।
এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী মনে করেন নগরের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারে ‘নির্মাণত্রুটির’ কারণে র্যাম্পের পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফ্লাইওভার পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিকেলে ফ্লাইওভার পরিদর্শনে আসে চউক প্রতিনিধি দল। এ সময় তারা ফ্লাইওভারের কালুরঘাটমুখী র্যাম্পের পিলারগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ফ্লাইওভারে কোনো ফাটল দেখা দেয়নি। এটা গুজব।’
তিনি বলেন, ‘ফাটল বলে যেটার কথা বলা হচ্ছে, সেটা শাটার আপডাউনের দাগ। ফ্লাইওভার উদ্বোধনের সময় থেকেই এটি ছিল।’
বুধবার ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে আরও পর্যবেক্ষণ করবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মেয়র রেজাউল। এ সময় তার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটে কালুরঘাট সড়কমুখী এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র্যাম্পের একটি পিলারে ফাটল দেখা দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুর্ঘটনা এড়াতে সোমবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে ফ্লাইওভারের এই অংশে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়র রেজাউল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তো প্রকৌশলী নই। ফাটলের সুনির্দিষ্ট কারণ আমি বলতে পারব না। সাধারণভাবে যেটা বলতে চাই, নিশ্চয়ই নির্মাণে ত্রুটি আছে। যার ফলে এ ফাটল দেখা দিয়েছে। এখানে প্রকৌশল দৃষ্টিকোণ থেকে কী হয়েছে না হয়েছে, এটা আমার চেয়ে আমাদের প্রকৌশলীরা ভালো বলতে পারবেন। তারা কারিগরি বিষয়ে ভালো বোঝেন।’
চউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ২০১০ সালে চউকের তত্ত্বাবধানে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের কাজ শুরু হয়। ২০১২ সালের দুর্ঘটনার পর এর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করেন।
প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমরা ফ্লাইওভারটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করি। কিন্তু তারা ঠিকমতো ফ্লাইওভারের দেখভাল করেনি। এই ফ্লাইওভার দিয়ে সবসময় ওভারলোড ট্রাক চলাচল করে।
১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলাকালে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে একটি গার্ডার ধসে গিয়ে ১৪ জন নিহত হন।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিন উল ইসলাম বলেন, ‘ফাটল বুঝতে হলে ক্রেন দিয়ে উপরে গিয়ে দেখতে হবে। তবে নিচ থেকে দেখতে ফাটলের মতো মনে হছে। বিশেষজ্ঞরা ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্লাইওভারে হাইট ব্যারিয়ার দেওয়ার কথা ছিল চউকের। কিন্তু তারা তা করেনি।’
