পুরুষের লম্বা চুল যেকারণে সমাজ পছন্দ করে না

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৪৬ পিএম

দেশে পুরুষদের চুলের কাট নিয়ে নানা রকম আপত্তি বিপত্তি দেখা যাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ ছাত্রের চুল কাটা, ৬ মাদ্রাসা ছাত্রের চুল কাটা ও সর্বশেষ ভোলাতে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের চুলের কাট বিষয়ক জনবিজ্ঞপ্তি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চুল নিয়ে এত আপত্তি কেন? বা পুরুষের চুলের কাটের সঙ্গে সমাজের মনস্তত্ত্ব কীভাবে জড়িত? তারই উত্তর খুঁজেছেন বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক সাইয়েদা আক্তার।

সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বহু বছর ধরেই চুলের কাটের সঙ্গে পুরুষের লৈঙ্গিক পরিচয়কে যুক্ত করে ফেলা হয়েছে। ধরে নেয়া হয়, পুরুষের চুল হবে ছোট, কারণ সেটা পৌরুষদীপ্ত। পুরুষের মাথায় লম্বা চুল হলে সেটাকে মেয়েলি মনে করা হয়।

সমাজের একটা বদ্ধ ধারণা, পুরুষের চুল থাকবে ছোট আর নারীর চুল থাকবে বড়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরিন বলছেন, ‘যখনই পুরুষ চুল লম্বা করে, ধরে নেয়া হয় সমাজের ঠিক করা নর্মস তারা মানছে না, তাদের তখন বখাটে বা সমাজবিরোধী- এমন একটা দৃষ্টিতে দেখা হয়।’

তিনি বলেন, ইউরোপে রেনেসাঁ সময়কালে আধুনিক পুরুষের যে অবয়ব চিন্তা করা হয়েছে সেখানে পুরুষের ছোট চুল চিত্রিত হয়েছে। এ ছাড়া গত কয়েকশ বছর ধরে পুরুষের সামাজিক চেহারা হিসেবে তাকে ছোট চুলেই কল্পনা করা হয়েছে।

নৃবিজ্ঞানী আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে যেসব চাকরিকে হোয়াইট কলার জব বা সম্মানজনক পেশা হিসেবে দেখা হয়, তার জন্য যেসব স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানেও ছোট চুলকেই আদর্শ হিসেবে দেখানো হয়েছে। যে কারণে এর ব্যতিক্রমকে কাঙ্ক্ষিত মনে করা হয় না।’

তবে, এই উপমহাদেশে বা বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় বাউল, পীর ও মাইজভান্ডারি ঘরানা কিংবা সুফি সাধকসহ শিল্প সাহিত্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা লম্বা চুল রেখেছেন। তাহলে কি ইউরোপিয়ান ধারণাই এখানে প্রকটভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদ মনে করেন, চুলের সঙ্গে রাজনীতি ও সমাজনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি এখন এক ধরনের ট্রানজিশন বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে (চিন্তাধারা) একদিকে বিশ্বের আধুনিক স্টাইল বা ফ্যাশনের দিকেও যেমন যাচ্ছে, তেমনি একই সঙ্গে কট্টর অনুভূতির দিকেও যাচ্ছে।’

সমাজবিজ্ঞানী, অধ্যাপক ওয়াহিদ মনে করেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় লম্বা চুল কেটে দেয়ার যেসব ঘটনা শোনা যায়, তার পেছনে মানুষের মনের অতিমাত্রায় রক্ষণশীল ভাবধারা কাজ করে। একজন মানুষের নিজস্ব পোশাক বা হেয়ারস্টাইল যে চাইলেই আরেকজন বদলে দিতে পারে না, সেই সহনশীলতা কমে যাচ্ছে সমাজে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত