শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বাঘাবাড়ি মোল্লাপাড়া গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী হামলা-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বিভিন্ন হাসপাতালে।
ওই গ্রামের মোল্লা গোষ্ঠীর একজনের সন্ত্রাসী তা-ব, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের আগে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে দু’পক্ষ এই হামলা-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী একাধিক নারী-পুরুষ ও কিশোরী দাবি করেন, ২-৩ বছর ধরে মোল্লাপাড়ার আমিরুল মোল্লা নিজ গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী তা-ব, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। এ ছাড়া গরু-ছাগল-ভেড়া, হাঁস-মুরগি, মোবাইল ফোন, দামি জিনিসপত্র ও নগদ টাকা চুরি ও লুট করে নিয়ে গেছে। এসব ঘটনা তার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বৃদ্ধা, বিধবা, গৃহবধূ, স্কুল-কলেজের ছাত্রী ও উঠতি বয়সী কিশোরী কেউই তার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। দিনে দুপুরে গৃহবধূরা নদীতে গোসল করতে যেতে পারে না।
গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে এসব ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আমিরুল গংকে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৭ অক্টোবর রাতে বাঘাবাড়ি হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে প্রামাণিক গোষ্ঠীর লোকজন বাড়ি ফেরার সময় মোল্লা গোষ্ঠী হামলা চালায়। এরই জের ধরে এ হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মোল্লা গোষ্ঠীর কামাল আহমেদ বাবু, খলিল মোল্লা, মিন্টু মোল্লা, সেন্টি মিন্টু বলেন, চুরি নির্যাতনের ঘটনায় আমিরুল মোল্লার বিচার আমরাও চাই। কিন্তু তারা বিনা উসকানিতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফজরের নামাজের আগে অতর্কিতে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়।
শাহজাদপুর থানার ওসি (অপারেশন) আবদুল মজিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃদু লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আমিরুলের বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে জামিনে বেরিয়ে আসে।
