কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে শস্যভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে হেলে পড়েছে কয়েকশ বিঘা জমির ধান। পাশাপাশি বিভিন্ন রকম পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে গেলে কৃষকেরা জানান, এ পরিস্থিতিতে ধানের উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন তারা। তবে বৃষ্টি হওয়ায় ধান খেতে পোকার আক্রমণ কমেছে জানিয়ে, তেমন কোনো সমস্যা হবে না দাবি কৃষি বিভাগের।
কৃষকেরা জানান, হিলিতে চলতি আমন মৌসুমের শুরুতে আকাশের বৃষ্টিপাত না হওয়ায় একটু দেরিতে সেচের মাধ্যমে আমন ধান রোপণ করতে হয়েছে। পরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় ও জমিতে ঠিকমতো সার প্রয়োগ করায় ধানের গাছ হয়েছিল বেশ সুন্দর। কিন্তু পরবর্তীতে ধান খেতে দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের পোকা ও ইঁদুরের আক্রমণ। পোকার আক্রমণ ও ইঁদুর গাছের গোড়া কেটে দেওয়ায় ধানের গাছ শুকিয়ে মরে যেতে শুরু করে।
কৃষি অফিসের পরামর্শ মোতাবেক বেশ কয়েকবার সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে কিছুটা অবস্থার উন্নতি হলেও সম্প্রতি কয়েক দিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে হেলে পড়েছে বেশ কিছু জমির ধান। ইতিমধ্যেই জমির ধান পাকতে শুরু করেছে কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে, এমন অবস্থায় ধান হেলে পড়ায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে জানান।
হিলির ইসমাইলপুরের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন, এ বছর ধান খেতে পোকার অত্যাচার খুব বেশি। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে জমিতে তিন থেকে চারবার করে ওষুধ প্রয়োগ করেছিলাম। কিন্তু তাতেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর যে সময় ধান পাকবে সেই মুহূর্তে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ধানের গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। এতে করে কৃষকের ধান কাটা, মাড়াইয়ের টাকাই উঠবে না।
একই এলাকার কৃষক ইসরাফিল হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কারেন্ট পোকার আক্রমণের হার বেশি। এর ওপর ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক জমির ধান পড়ে গিয়েছে, হাওয়া বাতাস ঢুকে যাওয়ার কারণে এই ধানের ফলন পাওয়া যাবে না।
কৃষক আজমল হোসেন বলেন, এবারে ঠিক যখন ধান পাকবে সেই মুহূর্তে পানি আসায় আমাদের কৃষকদের প্রচুর ক্ষতি হয়ে গেল। এবার আমাদের ধান চাষাবাদ করে কোনো লাভ আসবে না, উল্টো অনেক ক্ষতি হবে। বিঘা প্রতি ধান পাওয়া যেতো ২০ থেকে ২২মন করে, এখন ধান হেলে পানিতে ডুবে যাওয়ায় ১০ থেকে ১২মন করে পাওয়া যেতে পারে। ধান আবাদ করতে ১০হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে, এখন ধানের যে অবস্থা তাতে করে হয়তো ৫/৬হাজার টাকা উঠবে, এতে করে প্রতি বিঘাতে ৪/৫হাজার টাকা করে ক্ষতি হবে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে ধানের অবস্থা ভালো, কয়েক দিন আগে তাপমাত্রা বেশি থাকায় পোকার আক্রমণ যেভাবে ছিল এখন বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা কমে গিয়েছে। এতে করে পোকার যে বৃদ্ধির জন্য তাপমাত্রা দরকার সেটি তারা পাচ্ছে না। যার কারণে পোকার বৃদ্ধি কমে গিয়েছে। বর্তমানে ধান খেতে পোকার আক্রমণ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, যেটা ক্ষতিকর লেভেলে যাবে না।
