নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনের পোস্টার লাগাতে গিয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হক লিটনের কিশোর ছেলেসহ সাত কর্মী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ইউনিয়নের চাঁদপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে রাতেই চিকিৎসার জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটা ভ্যান নিয়ে চাঁদপুর বাজারে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোজাম্মেল হক লিটনের পোস্টার টানাতে আসে তার কর্মী সমর্থকেরা। হঠাৎ ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা করে প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত ভ্যান ভাঙচুর করে এবং পোস্টার ছিনিয়ে যায়।
সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি মারপিটে আহত হয় মোজাম্মেল হক লিটনের স্কুল পড়ুয়া ছেলে নাজমুল সিয়াম (১৭), ভ্যানচালক বাবলু (৫০), কর্মী রুবেল হোসেন (৩২), মাইনুল হোসেন (১৭), আব্দুল মোমিন (১৩), বায়জিদ (২৫) ও আসাদুর রহমান মিন্টু (৩৪)।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। আহতরা সবাই কাফুরিয়া ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
আহত আসাদুর রহমান মিন্টু জানান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সুক্কুর নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। সুক্কু তাকে লাঠি দিয়ে মারপিট করেছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সুক্কুর মোবাইলে কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নাটোর আধুনিক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাকিব জানান, মারপিটের শিকার সাতজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তারা কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি।
নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এখনো এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার লক্ষ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনী সর্বদা তৎপর রয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেলে তাৎক্ষণিক পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে ছুটে যাচ্ছে।
হাসপাতালে উপস্থিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদর উপজেলা শাখার সহসভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন অভিযোগ করে বলেন, সাধারণ ভোটারদের সাথে সাক্ষাৎ করলে ও প্রচার-প্রচারণায় বের হলে সন্ত্রাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া এবং হুমকি- ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
