অজানাই থেকে যাবে করোনার উৎস!

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৩ পিএম

টিকাদানের গতি বাড়িয়েও প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে কাবু করা যাচ্ছে না। মহামারীর দুই বছর চললেও, এখনো নতুন করে অনেক অঞ্চলে করোনার সংক্রমণ বেড়েই যাচ্ছে। সম্প্রতি বলকান অঞ্চলভুক্ত দেশগুলোয় সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। করোনার উৎস কোথায় তা এখনো জানে না বিশ^বাসী। শুরু থেকেই সন্দেহের তীর চীনের দিকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, নানা বিতর্ক চললেও করোনাভাইরাসের মূল উৎস নির্ধারণে তারা সফল না-ও হতে পারে। আর এতে করে হয়তো ভাইরাসের উৎস সম্পর্কে কখনোই জানা যাবে না। করোনাভাইরাস কী পশুর শরীর থেকে মানবদেহে ছড়িয়েছিল, নাকি গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাক্রমে বাইরে সেটি ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে বিস্তারিত একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা অফিস অব দ্য ইউএস ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ওডিএনআই) এক রিপোর্টে জানিয়েছে, প্রাকৃতিকভাবে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি এবং গবেষণাগার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে উভয় বিষয়েই বিশ্বাসযোগ্য অনুমান রয়েছে। তবে এ দুটির মধ্যে কোনটির সম্ভাবনা বেশি, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। এ ছাড়া ভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মূল্যায়ন করা যায় কি না, সে বিষয়েও একমত নন বিশেষজ্ঞরা।

কোনো জৈব অস্ত্র হিসেবে করোনাভাইরাস সৃষ্টির বিষয়টিকেও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দাদের ওই রিপোর্টে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জৈব অস্ত্র হিসেবে ভাইরাস সৃষ্টির অভিযোগের প্রবক্তাদের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষণাগারে সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। আর তাই এ ধরনের তত্ত্ব ছড়ানোর কারণে তাদের ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্টটি সামনে আসার পরপরই গত শুক্রবার এর সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘করোনাভাইরাসের উৎস খোঁজার জন্য বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্র বরং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর আস্থা রাখছে। ওয়াশিংটনের এই কর্মকাণ্ড পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রহসন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ড ভাইরাসের উৎস নির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণাকে ছোট করবে এবং একই লক্ষ্যে পরিচালিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকেও বাধাগ্রস্ত করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত