সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মুসি নদীতে একটি দ্বীপের সন্ধান পাওয়া গেছে। বছর পাঁচেক আগে বিশেষজ্ঞরা এমন দ্বীপের কথা জানিয়েছিলেন, সেই সূত্র ধরে জেলেরা অনুসন্ধান চালাতে চালাতে পাওয়া গেছে এমন দ্বীপের সন্ধান। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দ্বীপটির নাম দেয়া হয়েছে ‘সোনার দ্বীপ’।
মুসি নদী কুমিরের আবাসস্থল হওয়ায় ভয় ও শঙ্কার মধ্যেও জেলেরা এই অনুসন্ধান চালিয়ে গেছেন। এই দ্বীপে পাওয়া গেছে মূল্যবান পাথর, সোনার গয়না, ব্রোঞ্জের মূর্তি এবং দুর্মূল্য একটি বুদ্ধ মূর্তি। বিশেষজ্ঞদের একটি সূত্র বলছে বুদ্ধ মূর্তিটির মূল্য কয়েক কোটি টাকা।
এ ছাড়া দ্বীপের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা পেয়েছেন প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শ্রীবিজয় সভ্যতার অংশ। আনুমানিক সাত থেকে ১৩ শতক পর্যন্ত রাজত্ব ছিল এই সভ্যতার। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে দ্বীপটিতে পাওয়া সভ্যতার চিহ্নের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ সিয়েন কিঙ্গলে একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই সভ্যতার চারপাশে জলে ঘেরা ছিল। ফলে একে ‘ওয়াটার ওয়ার্ল্ড’-ও বলা হত। জলে ঘেরা থাকায় অনেক বাসিন্দা নৌকার ওপরেই ঘর বানিয়ে থাকতেন। এই সভ্যতার বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে নৌকায় বানানো ঘর, মন্দির, প্রাসাদ সবই জলে ডুবে যায়। এই সভ্যতার আদিবাসীদের মধ্যে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা ছিলেন অন্যতম।
কীভাবে এই সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য উপাত্ত হাজির করতে পারেননি প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইন্দোনেশিয়ার অগ্ন্যুৎপাতের কারণেই ধ্বংস হয়েছে এই সভ্যতার। মুসি নদীর ভয়াবহ বন্যাও বিলুপ্তির কারণ হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
সূত্র: নিউজ এইটটিন
