পাকিস্তানকে ধ্বংস করা হবে উল্লেখ করে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর আফগান শাখা বলেছে যে, কঠোর শরিয়া আইনের শাসন বাস্তবায়ন করাই তাদের লক্ষ্য। এবং বিশ্বের যে কেউ ইসলাম এবং কুরআনের বিরুদ্ধে গেলে তাদেরকে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ক্রোধের মুখোমুখি হতে হবে।
নাজিফুল্লাহ নামে ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএস-কে) এর এক সদস্য বলেছে, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য পাকিস্তানকে ধ্বংস করা। কারণ আফগানিস্তানের সবকিছুর মূলে রয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানিরা আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করলেও ইসলামি বিধি-বিধান বাস্তবায়ন করছে না। সে কারণেই আমরা এই অঞ্চলে আমাদের জিহাদ শুরু করেছি’।
তার মতে, তালেবানরা ক্ষমতা দখল করার পর থেকে আফগানিস্তানের অবস্থা আরও খারাপ দিকে যাচ্ছে। তালেবানের বিরুদ্ধে ‘দেশকে ধ্বংস করার’ অভিযোগও করেন এই জঙ্গি।
নাজিফুল্লাহ বলেন, ‘আমরা শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করতে চাই। আমাদের নবী যেভাবে জীবনযাপন করতেন, যেভাবে তিনি পোশাক পরতেন, যেভাবে হিজাব ছিল, আমরা তা বাস্তবায়ন করতে চাই। আর এজন্যই আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাচ্ছি’।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তালেবান উভয়েই নাজিফুল্লাহকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করে তাকে ধরার চেষ্টা করছে।
গত ১৫ আগস্ট থেকে আইএস-কে আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশজুড়ে আত্মঘাতী হামলা এবং বোমা হামলা চালিয়ে আসছে। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। তালেবানদের টার্গেট করে হামলা চালানোর পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর, বিশেষ করে সংখ্যালঘু শিয়া জনগোষ্ঠীর উপর হামলা চালাচ্ছে আইএস-কে।
আইএস-কে-এর বেশিরভাগ সদস্য আফগানিস্তান এবং প্রতিবেশী পাকিস্তানের দলত্যাগী তালেবান। তারা একদেশে ইসলামি শাসন কায়েমের চেয়ে বরং বিশ্বব্যাপী ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং ইসলামের আরও কঠোর ব্যাখ্যা করে।
তালেবান ছেড়ে আইএস-কে-তে যোগদানকারী অন্যদের মতো নাজিফুল্লাহও বলেন যে, তিনিও আইএস-এ যোগ দিয়েছেন তালেবানের মধ্যে ইসলাম বিষয়ে সততার অভাবের কারণে। তিনি বলেন, তালেবানের অসততায় তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।
নাজিফুল্লাহ বলেন, ‘আমরা তালেবানকে আমাদের মোল্লা ওমরের একটি ভিডিও দেখাতে বলেছি, কিন্তু আমরা তা পাইনি। সেজন্য এখানে দায়েশ তৈরি করা হয়েছে। তাদের সত্যবাদী বলে মনে হয়েছে এবং তারা বলেছে যে তারা কঠোর শরীয়া আইন বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, তাই আমি তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছি’।
উল্লেখ্য, তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমর ২০১৩ সালে মারা গিয়েছিলেন, যা প্রায় দুই বছর ধরে গোপন রাখা হয়েছিল। তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকেও পর্দার আড়ালে রাখা হচ্ছে।
২৪ বছর বয়সী যুবক নাজিফুল্লাহ আরও বলেন যে, তালেবানদের চেয়ে সংখ্যায় কম হওয়া স্বত্বেও আইএস-কের আফগানিস্তানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে। আফগানিস্তানের মাটিতে তালেবানের সংখ্যা প্রায় সত্তর হাজার থেকে এক লাখের কাছাকাছি, যেখানে মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে আইএস-কে সন্ত্রাসীদের সংখ্যা মাত্র দুই হাজার।
আইএস-কে তাদের সক্ষমতা দেখানোর জন্য শুধুমাত্র তালেবানদের ওপর নয়, বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা শুরু করেছে। এই ধরনের হামলার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছিল কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আত্মঘাতী হামলা।
নাজিফুল্লাহ বাগরাম কারাগারে বন্দী ছিল। তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর সে মুক্তি পায়। কিন্তু মুক্তি পেয়েই সে আইএস-এ যোগ দেয়। নাজিফুল্লাহ জানায় তার সঙ্গে চীন, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান, ইরান এবং রাশিয়া থেকে আসা অনেক জিহাদীও রয়েছে।
তবে, তালেবানরা আফগান মাটিতে আইএস এর উপস্থিতি অস্বীকার করে আসছে এবং দাবি করছে যে তারা পরাজিত হয়েছে।
