নদী ভাঙন: স্কুল ভবন ও মাঠ রক্ষায় স্থাপিত ব্লকে ধস

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২১, ০১:০০ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ফতেপুর ইউনিয়নের হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি কয়েক দফায় স্থানান্তর করার পরও নদী ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টি রক্ষায় বংশাই নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বসানো ব্লকে ধস দেখা দিয়েছে।

রবিবার ভোরে বিদ্যালয় মাঠের মাঝামাঝি অংশে ওই ব্লকের ১০ থেকে ১২ মিটার এলাকাজুড়ে এই ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টির মাঠ ও ভবন বংশাই নদীর ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। ব্লক ধসের ঘটনায় শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে বংশাই নদীর তীরবর্তী স্থানে ১৯৭১ সালে হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি কয়েক দফায় বংশাই নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের মূল অংশ নদী গর্ভে চলে যায়।

সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে বর্তমান জায়গায় বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও বিদ্যালয় মাঠ ও ভবন নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। তখন স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেনের সুপারিশে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যালয় রক্ষায় মাঠের দক্ষিণাংশে ব্লক স্থাপন করে।

এতে বিদ্যালয়টি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায়।ব্লক স্থাপনের ৭ বছর পর রবিবার ভোরে হঠাৎ করে স্থাপন করা ব্লকের কিছু অংশে ধস দেখা দেয়।

হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী ইয়াছিন আলী জানান, ভোরে তিনি হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পেয়ে নদীর পাড়ে এগিয়ে গিয়ে দেখেন মাঠের ব্লক লাগানো অংশের মাঝামাঝি ১০ থেকে ১২ মিটার এলাকাজুড়ে ধসে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।তিনি ভয় পেয়ে ওই স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে এসে প্রধান শিক্ষককে ফোন করে বিষয়টি জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, নৈশ প্রহরী জানানোর পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্লক এলাকায় ধসে পড়ার বিষয়টি দেখেন। পরে সকালে তিনি বিষয়টি টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানান।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, খবর পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।তিনি বিদ্যালয় রক্ষায় ধসে পড়া অংশ দ্রুত মেরামতের আবেদন জানান।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও মির্জাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান জানান, হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয় ইতিপূর্বেও কয়েক দফায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানান্তরিত হয়েছে।

এবার ভেঙে গেলে স্থানান্তর করার আর জায়গা থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়টি বংশাই নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল।মাঠের দক্ষিণাংশে ব্লক বসানোর পর ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেলেও হঠাৎ ধসের খবরে তিনি উদ্বিগ্ন। যে কোনো সময় ভবনসহ মাঠ ভাঙনের কবলে পড়ে নদী গর্ভে চলে যেতে পারে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত