কাজেই তৃপ্ত আজাদ আবুল কালাম

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২১, ১০:০৬ পিএম

আজাদ আবুল কালাম একাধারে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনয়শিল্পী ও সংগঠক হিসেবে খ্যাতিমান। এখন বেশকিছু নাটক ও সিনেমায় কাজ করছেন। এরমধ্যে আছে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের ছোটগল্প নিয়ে নির্মিতব্য ‘গুনিন’। গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত এই সিনেমার কাজের অভিজ্ঞতা ভালো বলে জানালেন আজাদ আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘আমি গুনিন চরিত্রে অভিনয় করছি। সিনেমার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কিছুদিন পর সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানানো হবে।’

অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায় ‘জলে জ্বলে তারা’ নামে একটি সিনেমাতেও অভিনয় করছেন আজাদ আবুল কালাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অরুণ চৌধুরীর সিনেমার শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভালো। লোকেশন ভালো ছিল, অ্যারেঞ্জমেন্টও ভালো ছিল। সবাই চেষ্টা করেছে ভালো করার।’

বিটিভিতে প্রচার হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক ‘জিন্দাবাহার’। ঢাকার অষ্টাদশ শতাব্দীর ইতিহাস নিয়ে নাটকটি লিখেছেন মামুনুর রশীদ এবং পরিচালনা করছেন ফজলে আজিম জুয়েল। এ ছাড়া জীবন পাখি নামের একটা সিনেমার শ্যুটিংও করছেন।

গত ৮ নভেম্বর প্রাচ্যনাটের ‘খোয়াবনামা’ নাটকের ৩৭তম মঞ্চায়ন হলো। করোনার পর এই সময়ে এসে রেসপন্স কেমন পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালো রেসপন্স পাচ্ছি। লোকজন তো এতদিন বন্দি ছিল। এখন বের হচ্ছে। লোকজন আসলে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সঙ্গে থাকতে চায়। গতকাল প্রচুর দর্শক ছিল। শুধু আমাদেরটা না, প্রতিটি নাটকেরই প্রচুর দর্শক হচ্ছে।’

প্রাচ্যনাট এ বছর দুই যুগ অতিক্রম করেছে। দুই যুগ পেরিয়ে কোনো অপ্রাপ্তি কাজ করে কি না জবাবে প্রাচ্যনাটের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘অতৃপ্তি বলে তো কিছু নেই। এটা তো স্ট্রাগল। কনটিনিউয়াস স্ট্রাগল। ভালো খারাপের বিষয় আলাদা। কাজ করতে পারাটাই তৃপ্তির। কাজ করতে পারছি, এটাই বড় বিষয়।’

মঞ্চ, টিভি, নাটক, সিনেমা সব অঙ্গনেই আপনার বিচরণ। করেছেন পরিচালনাও। এখন ডিজিটাল যুগ। এই সময়ে এসে অনেকের অভিযোগ- আগের চেয়ে নাটক সিনেমা মান হারাচ্ছে। একজন অভিনেতা হিসেবে আপনিও কি তাই মনে করেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘কাজ দুই ধরনের হয়, একটা ভালো কাজ। আরেকটা খারাপ কাজ। মার্কেটে ভালো কাজ যেমন হয়, তেমনি খারাপ কাজও হয়। খারাপ-ভালো মিলিয়েই মার্কেট। দর্শক যদি দেখে, চ্যানেলগুলো যদি চালায় তো আমাদের খারাপ বলে চিৎকার করে লাভ নেই।’

১৯৯৫ সালে আজাদ টেলিভিশন নাটকে প্রথম অভিনয় করেন মামুনুর রশীদ নির্দেশিত ‘বিশ্বাস’ নাটকে। প্রথম নাটকেই বাজিমাত। আরণ্যক নাট্যদল থেকে বের হয়ে ১৯৯৭ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নাট্যদল ‘প্রাচ্যনাট’। ২০০০ সালে কিত্তনখোলা দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। যাত্রাদলের সদস্যদের জীবন সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আবু সাইয়ীদ। পরের বছর তিনি আশিক মোস্তফা পরিচালিত ফুলকুমার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০০৪ সালে ফকির লালন সাঁইয়ের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘লালন’-এ লালনের যুবক বয়সের চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন তানভীর মোকাম্মেল।

তার অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকায় আছে- ‘কীত্তনখোলা’ এবং ‘লালন’, ‘বৃহন্নলা’, ‘মেহেরজান’, ‘গেরিলা’, ‘অনিশ্চিত যাত্রা’। অভিনয়ের বাইরে যেটুকু সময় পান সেটুকুতে নাটক লেখেন ও নির্মাণকাজে সময় দেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত