বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পাওয়া লড়াকু শোভা ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪৭ পিএম

জন্মের আগে বাবা হারানো, মামার বাড়িতে বড় হওয়া শোভা রানী ভর্তি হচ্ছেন বুয়েটে। তার এই সুসংবাদ দেশব্যাপী সবারই সুসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে প্রত্যেকেই কথা বলছেন। লড়াকু শোভাকে ‘স্যালুট’ জানাচ্ছেন। মোট কথা বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পাওয়া লড়াকু শোভা ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছেন।

জানা গেছে, তার মা স্থানীয় একটা স্কুলে দপ্তরির কাজ করতেন। তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনের অনেক অনুভূতি শেয়ার করেছেন সংবাদমাধ্যমে। সেখানে জানা যায়, মামার বাড়িতেও তার বেশি দিন আশ্রয় হয়নি। পথে নামতে হয়েছে একদম আশ্রয়হীন সম্বলহীন অবস্থায়।

আরো জানা যায়, পথে নামার পর দুই-তিন মাস পরে তার মায়ের একটা কাজ জুটে কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে। সেই বাড়িতে রান্নাঘরের পাশে ছোট্ট একটা রুমে থাকত তারা। সেখানেই বেগমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন বাড়িওয়ালা বললেন, ‘কাজ করে একজন। খায় দুজন। তোমার মেয়েকে কেন রাখব?’ একপর্যায়ে সেই বাসাও ছাড়তে হলো।

জানা গেছে, নিরুপায় হয়ে আবার মামাবাড়ি। সেখানে একটা স্কুলে ক্লাস ফোরে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে কোনো কাজ জোগাড় করতে না পেরে আবার ছাড়তে হয় মামাবাড়ি। ওঠেন গিয়ে মায়ের পিসির বাড়িতে। পরে তাকে সেখানে রেখে তার মা চলে যান কুমিল্লায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, যখন ক্লাস ফোরে পড়েন। তখন তার মা তার কথা চিন্তা করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর কুমিল্লা থেকে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে চলে যান। সেখানে আদর্শ কিন্ডারগার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন। পিএসসি পাসের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া গভর্নমেন্ট মডেল গার্লস হাই স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দেন। স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় তিনি অষ্টম হয়েছিলেন। নবম ও দশম শ্রেণিতে ক্লাসে তিনি প্রথম হয়েছিলেন।

এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস এবং বৃত্তি পান তিনি। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হন। এইচএসসি পরীক্ষার আগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ঘুড্ডি ফাউন্ডেশন একটা পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। সেখানে নির্বাচিত হয়ে বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং ও হোস্টেলে থাকার সুযোগ পান তিনি।

তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ফরম পূরণ, যাতায়াতসহ সব খরচ দিয়েছিল মানুষ মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। বুয়েট, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, বুটেক্সসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। সব কটিতে মেধাতালিকায় প্রথম দিকে আছেন তিনি। ২৫ নভেম্বর বুয়েটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হলে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির সুযোগ পান।

লড়াকু শোভার গল্প আরো হৃদয়স্পর্শী। তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরের মানুষ। শোভা জানান, বুয়েটে ভর্তির খবর তার মাকে জানানোর পর দুজনে যে কান্না করেছেন, সেই আনন্দের কান্নাটা কখনো ভুলবেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত