পারিবারিক কলহের জেরে বেশ কিছু দিনের জন্য বাপের বাড়িতে রেখে এসেছিলেন স্ত্রীকে। পরে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে কয়েকবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে আসতে অস্বীকৃতি জানায় স্ত্রী। পরে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে রাতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয় স্বামী। সকালে স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ রেখে পালিয়ে যায় স্বামী। এমনি এক হত্যার ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের বড়বেড় গ্রামে।
শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইমনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযুক্ত ইমন হোসেন (২২) শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তার বাড়ির লোকজনও পালাতক।
নিহত গৃহবধূ মারুফা আক্তার (১৬) কাপাসিয়ার উপজেলার বড়বেড় গ্রামের মাসুদ রানার মেয়ে। নিহত মারুফা নানার বাড়ি থেকে বরমী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সেখানে থাকার সুবাধেই ইমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে স্বজনেরা।
নিহতের স্বজনেরা জানান, শ্রীপুর কাপাসিয়া উপজেলার সীমান্ত বিভক্ত করা নদী বানার। পূর্ব পাশে কাপাসিয়া আর পশ্চিম পাশে শ্রীপুর উপজেলা। মারুফা পাশের শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামে নানার বাড়িতে থেকে বরমী বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সেসময় গ্রামের ইমনের সঙ্গে মারুফার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্ক ধরে নয় মাস আগে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই ইমন বেকার থাকায় তার মা-বাবা মারুফাসহ ইমনকে নানাভাবে কাজের জন্য চাপ দিত। এর জের ধরেই কয়দিন আগে মারুফার সঙ্গে তার শাশুড়ির বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে বাপের বাড়ি চলে আসে মারুফা। বেশ কিছু দিন পর স্বামী ইমন স্ত্রী মারুফার সঙ্গে দেখা করতে মারুফাদের বাড়ি আসে শুক্রবার। পরে রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত স্কুলছাত্রী মারুফার বাবা মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, ইমন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরে রাতের খাবার খেয়ে তারা একটি ঘরে ঘুমাতে যায়। পরে রাতে কোনো এক সময় আমার মেয়েকে গলাটিপে হত্যার করেছে ইমন। পরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার করেছে বলে ইমন জানিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, তাদের সুখী করতেই তাদের প্রেম মেনে নিয়ে বিয়ে দিয়ে আমার মেয়েকে হারালাম। ইমন ফোনে জানিয়েছে আমার মেয়ে তার সঙ্গে যেতে রাজি না হওয়াতে সে মারুফাকে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।
নিহতের নানি হালিমা বেগম জানান, ইমন বেকার জেনেও তাদের সম্পর্কের কথা মেনে বিয়ে দিলাম। আমাদের বাড়িতে থেকে আমার নাতনি পড়ত।
তিনি বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘আমাদের অত আদরের নাতনিডারে মাইরা ফালছে পাষণ্ডডা। কই গেল তাদের অত প্রেম মহাব্বত। হেই পাষণ্ড ইমনের বিচার চাই, ফাঁসি চাই।’
কাপাসিয়া থানার ওসি এম নাসিম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গৃহবধূ হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কাজ করছে খুব দ্রুতই পালাতক ইমনকে গ্রেপ্তার করবে পুলিশ।
