আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবানের তীব্র নিন্দা ও হুঁশিয়ারি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও ২০টি দেশ। দেশটির সাবেক নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং সাবেক সরকারের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিশানা করে হত্যার অভিযোগে এ নিন্দা জানিয়েছে দেশগুলো। কাবুল দখলের পর তালেবানের সাধারণ ক্ষমার কথা বিশ্বাস করে নিরাপত্তা বাহিনীর যে সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়েছিল, তাদের মধ্য থেকেই অনেককে নিশানা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতেও তালেবানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) নতুন এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক শতাধিক সৈন্য তালেবানের হাতে নিহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। যদিও তালেবানের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে টোলো নিউজ। তালেবান কর্র্তৃপক্ষ বলছে, নিশানা করে হত্যা করা হচ্ছে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ থাকলে তাদের যেন দেওয়া হয়, তাহলে তারা ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এইচআরডব্লিউ সে সময় জানায়, ক্ষমতা দখলের পর তালেবান নেতৃত্বের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার অঙ্গীকারও সাবেক সৈন্য এবং পুলিশকে লক্ষ্যবস্তু করা থেকে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীর স্থানীয় কমান্ডারদের বিরত রাখতে পারেনি। এমনকি সাবেক সরকারি সৈন্য ও পুলিশ সদস্যদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে তালেবানের নেতৃত্বের সায় ছিল বলেও অভিযোগ করে এইচআরডব্লিউ। তবে দেশটিতে যেকোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তালেবানের একজন মুখপাত্র।
বিবিসি বলছে, সাবেক সরকারের নিরাপত্তা সদস্য বা কর্মকর্তাদের ক্ষতি না করার বিষয়ে তালেবান যে অঙ্গীকার করেছিল তা পালন করতে যৌথ বিবৃতিতে ওই ২২ দেশ কাবুলের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর কাছে আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘জোরপূর্বক নিখোঁজ এবং বিনা বিচারে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ সংক্ষিপ্ত এই যৌথ বিবৃতি ইস্যু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও আরও ১৯টি দেশ এতে স্বাক্ষর করে। স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান ও ইউক্রেনও রয়েছে।
